ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরে আমদাবাদের সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে একের পর এক দগ্ধ দেহ আসতে থাকে। আগুনে এতটাই পুড়ে গিয়েছে দেহগুলি যে অধিকাংশকেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বিমান দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 12 June 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরে আমদাবাদের সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে একের পর এক দগ্ধ দেহ আসতে থাকে। আগুনে এতটাই পুড়ে গিয়েছে দেহগুলি যে অধিকাংশকেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহতরাও অচেতন অবস্থায় ভর্তি, দগ্ধ তাঁদের শরীরের অধিকাংশ অংশ।
হাসপাতালের চত্বরে অবস্থিত কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর ডাঃ প্রাঞ্জল মোদী জানিয়েছেন, “বেশিরভাগ রোগীই অচেতন। তাঁদের চেহারা এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে চিনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আপাতত তাঁদের প্রাণ বাঁচানোর দিকেই নজর দিচ্ছি।”
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু দেহের সঙ্গে এখনও সিটবেল্ট বাঁধা ছিল। এই অবস্থায় পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পোশাক, পকেট বা শরীরে কোনও পরিচয়পত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের খবর পেতে গুজরাটের নানা জেলা থেকে আত্মীয়-পরিজনেরা ছুটে আসছেন আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় উদ্যোগপতি তৃপ্তি সোনি, যাঁর ভাই স্বপনিল সোনি, তাঁর স্ত্রী যোগা ও ভ্রাতৃবধূ আলপা সোনি ছিলেন ওই বিমানে। তৃপ্তি জানিয়েছেন, “আমি হাসপাতালে অপেক্ষা করছি। এখনও ওদের কোনও খোঁজ নেই।”
ওই পরিবারটি লন্ডনে তাঁদের বড় দাদার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকেই ছুটি কাটাতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই যাত্রাপথই রূপ নিল বিভীষিকায়।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার পর গুজরাট সরকার হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে: ০৭৯-২৩২৫১৯০০ এবং ৯৯৭৮৪০৫৩০৪।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে উদ্ধারকার্য চলছে, এবং তদন্তে সহায়তা করতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্ল্যাক বক্স খোঁজার কাজ। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ২৪২ জন যাত্রী ও কর্মী নিয়ে বিমানটি আমদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়েছিল। উড্ডয়নের এক মিনিটের মধ্যে সেটি ভেঙে পড়ে মেঘানিনগর এলাকার একটি মেডিক্যাল হস্টেলের উপর।
সরকার ও প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমস্তরকম সাহায্য করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নাগরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।