
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 January 2025 10:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার দু’দিনের সফরে বেজিং যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। গতমাসে চিন গিয়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। আগামী মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আম্তর্জাতিক সম্মেলন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদীর বৈঠকের চেষ্টা চলছে।
বিক্রম মিস্ত্রির বেজিং সফর নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক সরকারিভাবে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। শুক্রবারই চারদিনের চিন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকে বাংলাদেশকেও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। মহম্মদ ইউনুস সরকারও জোর কদমে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা দশ বছর বৃদ্ধি করে চিন বাংলাদেশকে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়েছে। কথা দিয়েছে বিপুল বিনিয়োগের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রক সুত্রের খবর, মিস্ত্রির আসন্ন বেজিং সফরে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনার পাশাপাশি কথা হবে বাণিজ্য বৃদ্ধি নিয়ে। চিনা বিনিয়োগকারীরা ভারতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আরও বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ করুক, চাইছে নয়াদিল্লি।
ভারতের এই মনোভাবের পিছনে আছে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতি। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল হলেও ভারত তাতে বাড়তি কোনও সুবিধা পাবে না, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা ভারতের জন্য কতদূর কী হতে পারে তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিতে চিনের পাশাপাশি ভারতও বিপাকে পড়বে, বুঝে গিয়েছেন নয়াদিল্লির কর্তারা। বিদেশি পণ্যের উপর চড়া হারে কর চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। চিনের উপর দশ শতাংশ বাড়তি রপ্তানি শুল্ক ইতিমধ্যেই চাপিয়েছে হোয়াইট হাউস। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ভারতকেও নিশানা করেন। বলেন, এই দেশটি শুধু সুবিধা দাবি করে।
এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে ধরে নিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে চিন ও ভারত সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। গত বছর অক্টোবরে রাশিয়ায় ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একান্তে কথা হয়। পাঁচ বছর পর মুখোমুখী বৈঠক করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। ওই বৈঠকের আগে থেকেই সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে ঘন ঘন বৈঠক হচ্ছিল দুই দেশের কর্তাদের। যার সুফুল মেলে সীমান্তে। বরফ পড়ার আগেই পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে দু’দেশই সেনা সরিয়ে নেয়।
সীমান্তে সংঘাত এড়ানোর এই উদ্যোগকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা হিসাবেই দেখছে সব মহল। বিশেষ করে উন্নত সম্পর্ককে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে চাইছে বেজিং ও নয়াদিল্লি। দুই দেশের বিশাল বাজার পরস্পর ভাগ করে নিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং কড়াকড়ির মোকাবিলা সহজ হয়ে যাবে মনে করছেন দুই দেশের কূটনৈতিক কর্তারা।
প্যারিসের সম্মেলনে ভারতকে সহ-সভাপতিত্বের মর্যাদা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। প্যারিস সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর বৈঠক প্রায় চূড়ান্ত। চেষ্টা চলছে সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে তাঁর বৈঠকের। কূটনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এখন ভারতীয় কূটনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।