অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪৫০টি আইইডি, ৪০টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ডিটোনেটর ও ১২ হাজার কেজিরও বেশি অন্যান্য সামগ্রী— যার মধ্যে ছিল ওষুধপত্র ও ইলেকট্রিক সরঞ্জাম। ধরা পড়েছে চারটি অস্ত্র, মোটর ও কাটার তৈরির কারখানা।

অমিত শাহ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 May 2025 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ভারতের। জিরো টলারেন্স নীতি মেনে সন্ত্রাসবাদ দমনে একাগ্র দেশ। তা আবারও প্রমাণ হল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দৃঢ় বক্তব্যে। ছত্তীসগড়-তেলঙ্গানা সীমান্তের কারেগুট্টা পাহাড়ে ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাওবাদী দমন অভিযানে’ অন্তত ৩১ জন মাওবাদী খতম হয়েছে। এই অভিযানের সাফল্যকে 'ঐতিহাসিক' আখ্যা দিলেন অমিত শাহ। জানালেন, 'যে পাহাড় একসময় লাল সন্ত্রাসের দখলে ছিল, সেখানেই আজ উড়ছে তিরঙ্গা।' ২০২৬-এর মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী নির্মূল করাই লক্ষ্য সরকারের।
তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অপারেশনে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনও সদস্য হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেনার এই অভূতপূর্ব সাফল্যে তিনি গর্ব প্রকাশ করে বলেন, 'সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে মাওবাদীদের মুখোমুখি হয়েছে আমাদের বাহিনী। দেশ তোমাদের নিয়ে গর্বিত।' এই অভিযানে সিআরপিএফ, ছত্তীসগড় পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ও ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডের প্রায় ২ হাজারের বেশি জওয়ান অংশ নেন।
অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪৫০টি আইইডি, ৪০টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ডিটোনেটর ও ১২ হাজার কেজিরও বেশি অন্যান্য সামগ্রী— যার মধ্যে ছিল ওষুধপত্র ও ইলেকট্রিক সরঞ্জাম। ধরা পড়েছে চারটি অস্ত্র, মোটর ও কাটার তৈরির কারখানা।
সিআরপিএফের প্রধান জি পি সিং জানিয়েছেন, নিহত ৩১ জন মাওবাদীর মিলিত মাথার দাম ছিল ১.৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৮ জনের পরিচয় ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। বলেন, 'এদের মধ্যে অনেকেই সিনিয়র ছিল। বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দিত। আমরা যা করতে চেয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি পেরেছি। এটা মাওবাদী অধ্যায়ের শেষের সূচনা।'
কারেগুট্টা পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি। একাধিক মাওবাদী সংগঠনের সদর দফতর ছিল এটি। এখানেই তৈরি হত যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র। প্রশিক্ষণ নিত মাওবাদীরা। পাহাড়টি ছিল তিনটি ভাগে বিভক্ত। যার মধ্যে দুটি ভাগ দ্রুত দখলে এলেও মূল কারেগুট্টা ভাগটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। অবশেষে অভিযানের নবম দিনে সেনা কৌশলগত উপায়ে এলাকায় এয়ারড্রপের মাধ্যমে এগিয়ে যান নিরাপত্তারক্ষীরা। বিস্ফোরক ও মাইন এড়িয়ে পৌঁছন ‘গ্রাউন্ড জিরো’-তে। এক বিশাল গুহা অঞ্চলের মুখ, যেখান থেকে বহু হামলা পরিকল্পনা করা হতো। সেখান থেকে বাকি অভিযান চলে।
এই পাহাড়ের আরেকটি অন্ধকার অধ্যায় হল ‘ব্ল্যাক হিল।’এখানেই একসময় লুকিয়ে ছিলেন মাওবাদী সংগঠনের সবচেয়ে কুখ্যাত নেতা মাড়াভি হিদমা, যিনি দন্তেওয়াড়া (২০১০) ও সুকমা (২০১৭)-সহ ২৬টিরও বেশি হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে মনে করা হয়। তিনি মারা গেছেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সিআরপিএফ প্রধান জানিয়েছেন, দেশে মাওবাদী-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ২০২৪ সালে যেখানে ছিল ৩৫টি, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬টিতে। গত বছর প্রায় এক হাজার মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিল, এ বছর এখনও পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছে ৭১৮ জন।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাওবাদীদের অস্ত্র ফেলে মূল স্রোতে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, 'কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পুনর্বাসন প্রকল্পের সুযোগ নেওয়া উচিত। বর্তমানে বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রে যৌথভাবে এই দমন অভিযান জোরদার হয়েছে।'
এই বিশাল সাফল্যের পর ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সাই সেনাদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। বলেন, 'এটা দেশের সবচেয়ে বড় মাওবাদী বিরোধী অভিযান। তীব্র গরমে, পাথুরে দুর্গম পাহাড়ে, ছায়া ও জলের অভাবেও সেনারা যেভাবে লড়েছেন, তাদের সাহসকে স্যালুট জানাই।'