
শেষ আপডেট: 26 November 2023 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে ধসের মধ্যে বসে যখন ৪১ জন শ্রমিক ভাবছেন, কবে ফের তাঁরা বাইরে বের হতে পারবেন, তখন বাইরে চলছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ। একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেও বসে নেই উদ্ধারকারী দল। শ্রমিকদের সুড়ঙ্গের থেকে বের করে আনার কাজে এবার নামানো হল ভারতীয় সেনাকে।
মার্কিন যন্ত্র অগার মেশিন দিয়েই প্রথমে খননের কাজ শুরু করা হয়। আন্তর্জাতিক সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আর্নল্ড ডিক্সের তত্ত্বাবধানে চলে কাজ। মার্কিন যন্ত্রটি সুড়ঙ্গের বাইরে থেকে পাথর কাটতে কাটতে ভেতরে এগিয়ে যাবে, এবং পথ তৈরি করবে। সেই পথ দিয়ে বের করে আনা হবে শ্রমিকদের। এই পরিকল্পনামাফিক কাজ এগোচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার বিকেলের দিকে সুড়ঙ্গের মধ্যে একটি ধাতব বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে দেহ রাখে মার্কিন যন্ত্রটি। সেটা আর ঠিক করা যায়নি।
বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দু'টি রাস্তা। এক, ম্যানুয়াল ড্রিলিং ও দুই, ভার্টিক্যাল ড্রিলিং । এই দুই পথ অবলম্বন করে শ্রমিকদের উদ্ধার করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ম্যানুয়াল ড্রিলিং হল, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাই অবশিষ্ট ধ্বংসস্তূপের অংশ শাবল, কোদাল, গাঁইতি দিয়ে সরিয়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছবে। আর ভার্টিক্যালি ড্রিলিং হল, পাহাড়ের ওপর থেকে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে খুঁড়ে ভেতরে ঢোকা। বিশেষজ্ঞ ডিস্কের কথায়, বড়দিনের মধ্যেই শ্রমিকদের বের করে আনা সম্ভব হবে।
শুক্রবারের পর থেকে থমকে যায় উদ্ধারকাজ। রবিবার সকালে ফের কাজ শুরু হয়। ভার্টিক্যালি ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে খোঁড়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি নামানো হয়েছে সেনা। তাদের দায়িত্ব সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা অগার মেশিনটি বের করে আনা। কারণ ওই পথ পরিষ্কার না হলে ম্যানুয়াল ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু করা যাবে না। ইতিমধ্যেই ব্লেড কেটে মেশিনটিকে সরানোর জন্য প্লাজমা কাটার নিয়ে আসা হয়েছে হায়দরাবাদ থেকে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২৫ টন ওজনের ওই মেশিনটি রবিবার রাতের মধ্যে বের করে আনা হবে। তারপর সোমবার থেকে শাবল, কোদাল, গাঁইতি দিয়ে বাকি ১০ মিটার পথ খনন শুরু হতে পারে।
বাইরে দক্ষযজ্ঞ চললেও, সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা বিপুল কর্মযজ্ঞের কিছুই জানতে পারছেন না। লম্বা পাইপের মধ্যে দিয়ে দিনরাত খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের কাছে। এমনকী মোবাইল ফোনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত ভেতরে কি আর সিগন্যাল পাওয়া যায়? অগত্যা মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। নিজেদের মধ্যে কথাও ফুরিয়ে গেছে। শুধু মুক্তির অপেক্ষা ।