এই মামলায় মোট পাঁচ জন অভিযুক্তের নাম চার্জশিটে রয়েছে, পাশাপাশি দুটি জঙ্গি সংগঠন, পাকিস্তানের লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং টিআরএফ (TRF)-কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 19 December 2025 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রায় আট মাস পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA) মামলার চার্জশিট পেশ করল (Pahalgam terror attack chargesheet)। সেই চার্জশিটে স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর শীর্ষ কমান্ডার সাজিদ জাট (Sajid Jatt Lashkar), আর সেই হামলা কার্যকর করতে সাহায্য করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)।
এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, পহেলগামে হওয়া এই জঙ্গি হামলায় (Pahalgam terror attack) ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। ঘটনাটি ঘটে ২২ এপ্রিল। এই মামলায় মোট পাঁচ জন অভিযুক্তের নাম চার্জশিটে রয়েছে, পাশাপাশি দুটি জঙ্গি সংগঠন, পাকিস্তানের লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং টিআরএফ (TRF)-কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য
এনআইএ-র ১,৫৯৭ পাতার চার্জশিটে পাকিস্তানের মদত ও ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ, অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং একাধিক প্রামাণ্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, পহেলগাম হামলার পরিকল্পনা, রসদ জোগানো এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল লস্কর-ই-তইবা ও টিআরএফ।
এনআইএ স্পষ্ট করেছে, এই হামলার মূল হ্যান্ডলার ছিলেন সাজিদ জাট, যিনি লস্করের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম (Sajid Jatt Lashkar TRF)।
নিহত তিন পাকিস্তানি জঙ্গির নামও রয়েছে চার্জশিটে
চার্জশিটে সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে তিন পাকিস্তানি জঙ্গির নাম - সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানি।
এই তিন জঙ্গিকে গত জুলাই মাসে শ্রীনগরের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিকেশ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, এঁরাই সরাসরি পহেলগাম হামলায় যুক্ত ছিলেন।
কোন কোন আইনে মামলা?
এনআইএ জানিয়েছে, LeT, TRF এবং চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে -
এ ছাড়াও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও চার্জশিট
এই মামলায় আরও দু’জন অভিযুক্ত, পারভেজ আহমেদ এবং বশির আহমেদ -এর নামও চার্জশিটে রয়েছে।
এনআইএ-র দাবি, এই দু’জনকে ২২ জুন গ্রেফতার করা হয়, কারণ তাঁরা পহেলগাম হামলায় যুক্ত তিন জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় পারভেজ ও বশিরই প্রথম তিন জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে তাঁরা পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত।
সাজিদ জাট কে?
সাজিদ জাট একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত। তাঁর ব্যবহৃত নামগুলির মধ্যে রয়েছে - সাইফুল্লা, নুমি, নুমান, ল্যাংড়া, আলি সাজিদ, উসমান হাবিব এবং শানি।
২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে UAPA আইনের আওতায় ‘ব্যক্তিগত সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির অনুমান, সাজিদ জাট পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত লস্কর-ই-তইবার সদর দফতর থেকেই অপারেশন চালান।
তিনি শুধু যে TRF-এর অপারেশনাল প্রধান, তা নয়, কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন জঙ্গি নিয়োগ, অর্থ জোগান এবং সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ - এই তিনটির দায়িত্বও তাঁর হাতেই।
আগের হামলাতেও নাম জড়িত
সাজিদ জাটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বড় হামলার কথা উল্লেখ করেছে এনআইএ। এর মধ্যে রয়েছে -
এ ছাড়াও, হাইব্রিড জঙ্গিদের লজিস্টিক ও অপারেশনাল সহায়তা দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর নাম রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, বর্তমানে কাশ্মীরের জঙ্গি নেটওয়ার্কে সবচেয়ে বিপজ্জনক মুখ সাজিদ জাটই।