
শেষ আপডেট: 6 January 2024 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, তেলে জলে মিশ খায় না। আইন আদালত আর ব্র্যান্ডেড মদিরাও খায় কি? কিন্তু শুক্রবার ভরা এজলাসে যা হল, তারপর আর সেকথা বলার উপায় নেই। সুপ্রিম কোর্টে তখন মামলা শুনতে বসেছে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি চন্দ্রচূড় ছাড়াও সেখানে রয়েছেন আরও দুই প্রবীণ বিচারপতি। তাঁদের সামনেই কিনা দু-দুখানা মখমলি সোনা-রঙের হুইস্কি ভরা সৌখিন কাচের বোতল এনে ঠক করে বসিয়ে দিলেন! বিখ্যাত আইনজীবী মুকুল রোহাতগির কাণ্ডে তখন হতবাক বিচারপতিরা।
না, বিচারপতি কিংবা আইন ব্যবস্থাকে উৎকোচ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই মদের বোতলগুলি কেউ নিয়ে আসেননি। আসলে হয়েছে কী, মদ সংক্রান্ত একটি মামলারই শুনানি চলছিল শীর্ষ আদালতে। যাদের নিয়ে ঝামেলা, তারা সশরীরে হাজিরা না দিলে হয়? তাই সোনালি তরলে পূর্ণ দুই কাচের বোতলের আদালতে আগমন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেঞ্চে মামলাটি দায়ের করেছিল পার্নোড রিকার্ড নামে একটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা। 'ব্লেন্ডারস প্রাইড', 'ইম্পেরিয়াল ব্লু' সহ একাধিক সুপরিচিত মদ তৈরি করে থাকে এই সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, জে কে এন্টারপ্রাইজ নামে অন্য একটি সংস্থা তাদের 'প্রাই ' শব্দটি ব্যবহার করে এবং লোগো জাল করে বেআইনিভাবে মদ তৈরি করে 'লন্ডন প্রাইড' নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে হুবহু একই রকম দেখতে বোতল। বেআইনিভাবে ট্রেডমার্ক ভেঙে তৈরি এই মদ বিক্রি করেই জে কে এন্টারপ্রাইজের বার্ষিক টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৪,৪০০ কোটি টাকা, জানায় সংস্থাটি।
একথা জানার পরেই দুটি সংস্থার তৈরি মদের সাদৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে চান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্র। তাতেই প্রমাণ হিসেবে দুটি হুইস্কির বোতল ঠকাস করে বিচারপতিদের সামনে বসিয়ে দেন আইনজীবী মুকুল রোহাতগি। তাঁর কীর্তিতে প্রথমে অবাক হলেও পরে হেসে ফেলেন বিচারপতিরাও। সেই দৃশ্য দেখতে ভরা এজলাসের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন অন্য আইনজীবীরা।
আরও ভাল করে যাতে সেগুলির সাদৃশ্য খুঁটিয়ে দেখা যায়, তার জন্য বর্ষীয়ান আইনজীবী বোতল দুটির প্যাকেজিং খুলে সেগুলি বিচারপতিদের হাতে ধরিয়ে দেন। তখন রোহাতগিকে বোতলগুলি ফেরত দিয়ে মুচকি হেসে প্রধান বিচারপতি জানান, এর আগে বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন তিনি ভদকার ব্র্যান্ড নিয়ে এইরকমই একটি মামলা দেখেছিলেন।
তবে এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, 'প্রাইড' একটি জেনেরিক নাম। এটির উপর কোনও কপিরাইট দাবি করা যায় না। তবে মামলাকারীর দায়ের করা পিটিশনটি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে আদালত। তার পাশাপাশি জে কে এন্টারপ্রাইজকে একটি নোটিস জারি করা হয়েছে। আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে সেই নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে সংস্থাটিকে।
এর আগে পার্নোড রিকার্ডের তরফে এ ব্যাপারে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টেও একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, দুটি সংস্থার বোতলের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আদালত আরও জানায়, এটুকু ধরে নেওয়া যায় যে এই দুটি ব্র্যান্ডের মদ যারা কেনেন, তাঁরা ন্যূনতম শিক্ষিত, এবং দুটি বোতলের মধ্যে পার্থক্য করার মতো বোধবুদ্ধি রয়েছে তাঁদের। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের রায় পক্ষে না যাওয়ার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সংস্থাটি।