
শেষ আপডেট: 6 January 2024 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১১০ দিনের যাত্রা শেষ। সূয্যিমামার পাড়ায় পৌঁছে গেল ইসরোর সৌরযান আদিত্য এল-১। আর কিছু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ঠিক বিকেল ৪টে নাগাদ সূর্য-পৃথিবীর মাঝে ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টে সৌরযানকে বসিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। একপ্রকার ধাক্কা মেরেই ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টে সৌরযানকে ঠেলে বসিয়ে দেবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
নাসা আর ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ বা ‘এসা’) পর ভারতই প্রথম পাড়ি দিল সৌর-মুলুকে। এই অভিযান সফল হলে, মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে পাকাপাকি ভাবে সেরার শিরোপাটা ছিনিয়ে নেবে ভারত। ইসরো জানিয়েছে, পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝের এক কক্ষপথ ‘ল্যাগরাঞ্জিয়ান পয়েন্ট’ বা ‘ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট’-এ আর কিছুক্ষণেই ল্যান্ড করবে স্যাটেলাইট আদিত্য এল-১। সূর্যের বাইরের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্তর করোনার যাবতীয় তথ্য সে তুলে দেবে আমাদের হাতে।
বিকেলে আদিত্য-এল১-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের কক্ষপথ পরিবর্তন করানো হবে। ঠিক বিকেল ৪টে নাগাদ ইসরোর বিজ্ঞানীরা ধাক্কা দিয়ে সৌরযানটিকে পৌঁছে দেবেন ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্ট বা এল১ পয়েন্টের নির্দিষ্ট কক্ষপথে। সূর্য এবং পৃথিবীর দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। তার মাত্র এক শতাংশ পেরিয়েছে আদিত্য-এল১। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ১৫ লক্ষ কিলোমিটার। এর আগে ভারতের কোনও মহাকাশযান সূর্যের এত কাছে যায়নি।
সূর্যের সবচেয়ে রহস্যময় স্তর ‘সোলার করোনা’ নিয়েই কারবার করবে আদিত্য এল-১। সূর্যের বহিস্তরের তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি কেলভিন, নিম্নস্তরের প্রায় ৬০০০ কেলভিন। সূর্যের পৃষ্ঠদেশে ও করোনার তাপমাত্রার ফারাক এবং করোনা থেকে ছিটকে আসা আগুনে রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কী ভাবে প্রভাব ফেলে সেটাই খুঁজে বার করবে আদিত্য এল-১। তার জন্য এই উপগ্রহে রয়েছে সাতটি সায়েন্স পে-লোড।
সূর্যে পৌঁছে কী কী রহস্যের উত্তর খুঁজবে ভারতের সৌরযান
ইসরো জানিয়েছে, সূর্যের করোনার তাপমাত্রা গড়ে ১০ লক্ষ বা তার কিছু বেশি ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা সব সময় একরকমের থাকে না। কখনও বাড়ে, কখনও কমে। এই ধাঁধার উত্তর খুঁজবে আদিত্য এল-১।
দ্বিতীয়, সৌরবায়ুর গতিপথ বোঝাবে এই উপগ্রহ। প্রোটন ও ইলেকট্রনের সমন্বয় এই সৌরবায়ু প্রবল গতিবেগে ছিটকে বেরিয়ে আসে সূর্যের প্লাজমা থেকে। এর গতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। তাপমাত্রা প্রায় ১০ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের উত্তপ্ত সোলার করোনার জন্যই এই সৌরবায়ুর জন্ম হয়। এর মধ্যেকার শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও আয়নগুলো পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস নেটওয়ার্ককে তছনছ করে দিতে পারে।
তৃতীয়ত, সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম) যার দ্বারা স্যাটেলাইটগুলো আক্রান্ত হয় ও টেলি যোগাযোগে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যও দায়ী এই সৌরবায়ু, সৌরঝড় এবং সৌর বিকিরণ। এই সৌরঝড় কোন পথে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে পারে তার খোঁজ চালাবে আতিত্য এল-১।
চতুর্থত, সূর্য থেকে আসা যে ‘আল্ট্রা-ভায়োলেট রে’ বা অতি-বেগুনি রশ্মি আমাদের জলবায়ুর পক্ষে কতটা ক্ষতিকর, সেটাও জানার চেষ্টা হবে এই সৌর-অভিযানে।