
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 December 2023 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের প্রমোদতরীতে মাদক ব্যবহারের অভিযোগে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান, আরবাজ শেঠ মার্চেন্ট, মুনমুন ধমেচারা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে, গত দু’দশকের মাদক মামলায় অভিযোগ দায়েরের পরিমাণ বেড়েছে ২৯৮ শতাংশ, যা চোখ কপালে তোলার জন্য যথেষ্ট। মাদক পাচার আর মাদকের নেশার জন্য যে রাজ্যের নাম সবচেয়ে আগে উঠে আসে সেটা পাঞ্জাব। শাহিদ কাপুর-আলিয়া ভাটের ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমায় পাঞ্জাবে মাদকের সর্বনাশা নেশা দেখানোর জন্য যতই বিতর্ক হোক না কেন, বাস্তব ছবিটা যে সত্যি তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল রাজ্যেরই স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
পাঞ্জাবে মাদকের নেশা যত বাড়ছে, ততই গাছপালার মতো গজিয়ে উঠছে নেশামুক্তি কেন্দ্র বা রিহ্যাব। আর এই রিহ্যাবগুলোর অন্দরে ঢুঁ মেরেই চমকে উঠলেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। মাদক না পেয়ে সেখানে তার বিকল্প উপায় খুঁজে নিয়েছে মাদকাসক্তরা। মাদক ছাড়ানোর ওষুধ দিয়েই নেশায় বুঁদ সকলে। মুঠো মুঠো ডি-অ্যাডিকশন ওষুধেই জমে উঠেছে মৌতাত।
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলবীর সিং জানিয়েছেন, রাজ্যের ৮.৭৪ লাখ মাদকের নেশায় আসক্ত। এদের মধ্যে কমবয়সিরাই বেশি। সরকারি রিহ্যাবগুলিতে আড়াই লাখের বেশির চিকিৎসা চলছে, আর বেসরকারি রিহ্যাবে ভর্তি প্রায় ৬ লাখ। এই মাদক ছাড়ানোর চিকিৎসায় সরকারের ফি বছর খরচ হয় কম করেও ১০২ কোটি। ২০ কোটির মতো ডি-অ্যাডিকশন ড্রাগ বুপ্রেনরফিন বিলি করা হয় সরকারি ও বেসরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলোতে। আর সেখানেই নাকি ওই ওষুধ দিয়েই নেশা করার উপায় খুঁজে নিচ্ছে মাদকাসক্তরা।
এই বুপ্রেনরফিন অনেকটা আফিমের মতো। এই ওষুধ নির্দিষ্ট ডোজে দেওয়া হয় রিহ্যাবগুলিতে। ওষুধের ডোজ বেশি হলেই মুশকিল। তখন নেশা ছাড়ার বদলে আরও চেপে বসবে। সূত্রের খবর, এই ওষুধ খেয়েই নাকি নেশার আসর বসছে রিহ্যাবগুলিতে। পাঞ্জাবের সব রিহ্যাবগুলিতে ৬৭ হাজারের বেশি রোগী এই ওষুধের নেশাতেই আসক্ত।
২০২০ সালে বিজেপি সাংসদ রাজীবপ্রতাপ রুডির একটি প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রত্তনলাল কাটারিয়া লোকসভায় জানিয়েছিলেন, দেশে সেই মুহূর্তে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ অনূর্ধ্ব ১৮ কিশোর-কিশোরী কোনও না কোনও মাদক কিংবা মদের নেশায় আসক্ত। মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে, ৪০ লক্ষ কিশোর-কিশোরী আফিম জাতীয় নেশায় আসক্ত। যেখানে ১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সিদের মধ্যে আফিম জাতীয় নেশা করার সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষ। ইনহ্যালেন্ট বা শুঁকে নেশায় আসক্তদের সংখ্যাও কম নয়। সেডাটিভ বা ঘুমের ওষুধ জাতীয় নেশায় আসক্ত ২০ লাখের বেশি, ক্যানাবিস বা গাঁজা জাতীয় মাদকে আসক্ত কমবয়সিরাই। এই সংখ্যাও কোটি ছাড়িয়েছে। আর এবার মাদক ছাড়ানোর ওষুধ দিয়েই নেশার অন্য পথ খুঁজে নিচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম।