ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তকে বিয়ে করলেন তরুণী। ঘটনাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, “লাভ, নট লাস্ট।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক, সামনে এসেছে ভালবাসা ও সম্মতির জটিল প্রশ্ন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যতিক্রমী রায়ে নজির গড়ল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নাবালিকার ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির সাজা ও দণ্ড সম্পূর্ণভাবে বাতিল করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত (Justice Dipankar Datta) ও অগাস্টিন জর্জ মাসিহ (Justice Augustine George Masih)–এর বেঞ্চ জানায়, এই মামলার ‘অদ্ভুত বাস্তব পরিস্থিতি’ বিচার করে ‘সহানুভূতির ভিত্তিতে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের ভাষায়, ‘এই ক্ষেত্রে অপরাধ লালসা নয়, ভালবাসার ফল।’
ঘটনা কয়েক বছর আগের। ওই ব্যক্তি পকসো আইনের (POCSO Act) ধারা ৬–এর অধীনে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৬৬ নং ধারায় ৫ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, তিনি এক নাবালিকাকে অপহরণ ও যৌন নির্যাতন করেছিলেন। কিন্তু মামলার আপিল চলাকালীন ঘটনাপ্রবাহ বদলে যায়। আদালতে জমা নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ও ওই তরুণী, এখন দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক, ২০২১ সালের মে মাসে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের এক বছর বয়সি সন্তান রয়েছে, তাঁরা ‘সুখে সংসার’করছেন।
তরুণী নিজের হলফনামায় জানান, স্বামীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন কাটাতে চান ফলে তাঁকে নিয়ে যেন আর টানাটানি না করা হয়।
বিচারপতি দত্তের বেঞ্চ মন্তব্য করে, ‘আমরা জানি, অপরাধ কেবল ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, সমাজের বিরুদ্ধেও। কিন্তু বিচারব্যবস্থা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। অনেক সময় ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।’
রায়ে বলা হয়, ‘এই মামলা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে আইনের কড়াকড়ি নয়, ন্যায়বিচারের ভারসাম্যই মুখ্য। অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হলে শুধু সংসার নয়, স্ত্রী, সন্তান ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
তবে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘অভিযুক্ত কোনও অবস্থাতেই স্ত্রী ও সন্তানকে পরিত্যাগ করতে পারবেন না। তাঁদের সারা জীবনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরিণতি সুখকর হবে না।’ একই সঙ্গে জানিয়েছে, এই রায় কোনও নজির বা দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হবে না। আদালতের ভাষায়, ‘এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট ও অনন্য পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।’