
শেষ আপডেট: 1 April 2024 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে পক্ষকাল আগে। আর উনিশ দিনের মাথায় লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ করা হবে। সরকারের প্রায় সব দফতরই যখন ভোট নিয়ে ব্যস্ত, তখন ব্যতিক্রম ইডি-সিবিআই-আয়করের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সিগুলি। যা নিয়ে বিতর্কে এবার মুখ খুললেন দেশের প্রাক্তন তিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
তাঁদের অন্যতম এসওয়াই কুরেশির বক্তব্য, নির্বাচন চলাকালে এজেন্সির তৎপরতায় কমিশনের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ আছে এবং করাও উচিত। তাঁর কথায়, যে কাজ তিন মাস পরে করলেও চলে তা এখন না করতে কমিশন সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর/এজেন্সিকে নির্দেশ দিতেই পারে।
ভোটের দিন ঘোষণার পর ইডি ভিন্ন ভিন্ন কারণে গ্রেফতার করেছে তেলেঙ্গানার ভারত রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী কে কবিতা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। নোটিস পাঠিয়েছে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রকে। অন্যদিকে, রবিবার নতুন করে আয়কর নোটিস ধরিয়েছে কংগ্রেসকে। আগেই ওই দলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করে দিয়েছে আয়কর দফতর।
বিরোধী দলগুলি ভোটের মধ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির এই তৎপরতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে এই ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হন নেতারা।
তাঁদের বক্তব্য, কমিশন অবাধ ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ। অন্যদিকে, বিরোধীদের সমাবেশকে দুনীতিবাজদের জোট বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে ছাড়ব। এটা মোদীর গ্যারান্টি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক দুই প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনে করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে এজেন্সির এই তৎপরতায় ভোটের ময়দানে সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতি বিঘ্নিত হচ্ছে। এটা যাতে না হয় তা নিশ্চিত করা কমিশনেরই কাজ।
কংগ্রেসকে আয়কর নোটিস এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা আরও বলেছেন, আয়কর নোটিস জারি করা কোনও জরুরি বিষয় নয়। একটি রাজনৈতিক দলকে ভোটের সময় এই নোটিস ধরানোর অর্থ নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করে দিলে প্রচার করাও সমস্যা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই প্রাক্তন কমিশন কর্তার বক্তব্য, ভোটের সময় কমিশনকে যে কাজটি নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হয় তা হল সব দলের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি রাখা। কমিশনের তৎপরতায় সেটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
আর এক প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত অবশ্য বলেছেন, যে সব ঘটনায় গ্রেফতার এবং নোটিস ধরানো হচ্ছে সেগুলি নতুন নয়। একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছে। ইডি, সিবিআইয়ের গ্রেফতারি, আয়কর নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভোটের নির্ঘণ্ট জারির পর হয়নি। তদন্তের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শেষে এটা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কমিশনের হস্তক্ষেপের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।