অভিষেক সরাসরি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। তবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে মোদী সরকারের স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 23:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসে কাশ্মীরে (Pahalgam) জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জন নিরীহ মানুষের। তারপরই ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি মাটিতে মিশে গেছে। পাকিস্তানের মদতেই যে জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত, তার একাধিক প্রমাণও রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) কাছে।
আর পাক মদতপুষ্ট এই সন্ত্রাসের কথা সারা বিশ্বকে জানাতে দেশে দেশে বহুদলীয় সাংসদের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। তবে কেন্দ্রের তরফে যেভাবে কোন দল থেকে কোন প্রতিনিধি যাবেন, সেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিনও তিনি বলেন, "জঙ্গি দমনে ও দেশরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, তৃণমূল তার পাশে দাঁড়াবে। লড়বে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে। তবে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে দলের কাছে কোনও অনুরোধ আসেনি। আর কোন দল থেকে কে কে যাবেন, সেই বাছাই বিজেপি সরকারের হাতে থাকার কথা নয়।"
সকালে দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে একই কথা বলেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)। আর রাতে দিল্লিতে বিদেশ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক যা বললেন তার তারিফ করছেন অন্যান্য দলের বহু নেতাও।
অভিষেক সরাসরি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। তবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে মোদী সরকারের স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, "পহেলগামের হামলা থেকে যাঁরা বেঁচে ফিরে এলেন, যাঁরা চোখের সামনে প্রিয়জনকে হারাতে দেখলেন এবং যাঁরা সামনে থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁরাই তো পাকিস্তানের সন্ত্রাস নিয়ে সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন। তাই আমার মনে হয়, বহুদলীয় প্রতিনিধিদলের পরিবর্তে শহিদ পরিবারের সদস্যদের এবং সেনা জওয়ানদের দেশে দেশে পাঠানো হোক।"
রাজনৈতিক মহলে তো বটেই সাধারণ মানুষও ইতিমধ্যে অভিষেকের এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানাতে শুরু করেছেন। রাতে অভিষেকের ওই প্রতিক্রিয়া সামনে আসতেই সোশ্যাল মাধ্যমে অনেকেই তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করে কিনা।