
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 7 February 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের সময় বিজেপি গুচ্ছ গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তখতে বসার পর আর সেই প্রতিশ্রুতি পালন করছে না। এমনকী দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে নয়, ভোটকে লক্ষ্য রেখেই কেন্দ্র বাজেট বরাদ্দ করেছে বলে সংসদে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রের বাজেট নিয়ে এদিন সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, "কেন্দ্রের এই বাজেট সোনার হরিণের মতো!" কেন একথা বলছেন, তার ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন অভিষেক।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, "বিহারে বিজেপির ১২ জন সাংসদ, বাংলাতেও বারো। তবু বাজেটে বিহার পেল, বাংলা পেল না। কারণ, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই বাংলাকে বঞ্চিত করা হল। অন্যদিকে সামনে বিহারে বিধানসভার ভোট। ফলে কেন্দ্রের এবারের বাজেট থেকে স্পষ্ট দেশের মানুষের কথা ভেবে নয়, ভোটকে লক্ষ্য রেখেই মোদী সরকার বাজেট তৈরি করেছে।"
দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নামে কেন্দ্র ‘হাফ ফেডারেলিজম’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোদী সরকারের 'সবকা সাথ সবকা বিকাশ'কে তীব্র কটাক্ষ করে শ্লেষের সুরে অভিষেক এও বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুধিত শিশুর কথার চেয়ে প্রচার, হেডলাইন নিয়ে বেশি ভাবে!"
কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থেকে বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও, কর্ম সংস্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান তুলে ধরে এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড চালু করে কৃষকদের সাহায্যের পরিবর্তে ঋণে ডোবাতে চাইছে মোদী সরকার। ভোটের আগে ন্যূনতম সহায়কমূল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাও পূরণ হয়নি। দেশে কর্ম সংস্থানের কোনও ব্যবস্থা হয়নি। দিনকে দিন বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদের প্রতিটি ঘোষণা হাফ ডেলিভারির মতো।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র শিল্প, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ সড়ক যোজনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা কীভাবে এগিয়ে চলেছে তারও পরিসংখ্যান এদিন সংসদে তুলে ধরেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অভিষেকের কথায়, "বাংলার উন্নয়নকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সেজন্য কেন্দ্রের বাজেটে বাংলার জন্য উল্লেখযোগ্য একটিও আর্থিক প্যাকেজ নেই। উল্টে বিভিন্ন প্রকল্পে বাংলার ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে।"
টেনে আনেন নোটবন্দির প্রসঙ্গও। অভিষেকের কথায়, "নোটবন্দি থেকে বেকারত্ব, এই সরকারের আমলে কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ হয়নি। এদের আমলে গরিব আরও গরিব হয়েছে, ধনী আরও ধনী হয়েছে। এরা সাধারণ মানুষ, বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য কিছুই করেনি। ফলে এদের কাছে এসব আশা করা অন্যায়।"