
শেষ আপডেট: 2 October 2023 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদা বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে সরব হতেন বামেরা। তবে তা সংসদের শূন্য প্রহরে প্রস্তাব পাঠ বা সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই প্রথম বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে, নাটকীয় আন্দোলন দেখল দিল্লি।
পূর্ব ঘোষণা মতো সোমবার দুপুর দেড়টায় রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে ধর্নায় বসে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংসদ, বেশ কিছু মন্ত্রী এবং জেলা সভাপতিরা। তাঁদের হাতে ধরা রয়েছে পোস্টার। তার কোনওটায় লেখা বাংলা তহবিল এখনই ছাড়তে হবে। কোনওটিতে আবার লেখা বাংলার ১ কোটির বেশি পরিবারের বকেয়া পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। তা এখনই রিলিজ করা হোক।
যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রের সঙ্গে সব রাজ্যের সম্পর্ক যে মধুর থাকে তা নয়। সংঘাতের ছবিটা অতীতে বার বার দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে বাংলায় বাম জমানায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ ছিল বড় অস্ত্র। সিপিএম গ্রামেগঞ্জের মানুষকে লাগাতার বোঝানোর চেষ্টা করত যে, দিল্লি বাংলার অধিকারের টাকা দিচ্ছে না। তা অকারণে আটকে রাখছে।
সেই সময়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে এত চুরির অভিযোগ উঠত না ঠিক, কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে কখনও কংগ্রেস সরকার, কখনও বা এনডিএ সরকার অভিযোগ করত যে, আগে যে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেই টাকা হয় তখনও খরচ করতে পারেনি বাংলা কিংবা খরচের হিসাব দিতে পারছে না। অন্যখাতে ওই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে।
এই সংঘাত চললেও বাম জমানায় দিল্লিতে বড় কোনও আন্দোলনে দেখা যায়নি বাংলার নেতাদের। সেদিক থেকে তৃণমূলের সোমবারের আন্দোলনের চরিত্রগত ফারাক রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলার প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে অভিষেকদের এই আন্দোলন আসলে নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণের তাগিদে নয়। বরং বাংলার মানুষকে বোঝানোর তাগিদে যে দিল্লি টাকা আটকে রাখাতেই বাংলার গরিব মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
উনিশের লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, সেদিন থেকেই পরিষ্কার ছিল যে বাংলায় এখন অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করবে মোদী সরকার। হয়েছেও তাই। শুধু একশ দিনের কাজ নয়, গ্রামীণ উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প খাতে বরাদ্দ, বিপর্যয় মোকাবিলার টাকা, জিএসটির ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ সবকিছু দেওয়াতেই দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর কথায়, শুভেন্দুরা মনে করছেন, এভাবেই বাংলায় জেতা যাবে। কিন্তু বাংলাকে ভাতে মেরে তাঁদের রাজনীতির এই চেষ্টাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে মানুষ। তার ফলও পাবে ওঁরা।