
বিয়ের অনুষ্ঠানটিও হয়েছে সোসাইটির ক্লাবহাউসে।
শেষ আপডেট: 25 December 2024 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্ল্যাটের সব বাসিন্দা মিলে চাঁদা তুলে, আবাসনের দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে সবজি বিক্রি করা কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার দায়িত্ব তুলে নিলেন। এমনই মানবিক ও সামাজিক কল্যাণের মুখের পরিচয় দিলেন নয়ডার এক আবাসনের বাসিন্দারা। নয়ডার সেক্টর-১২১ এলাকার একটি আবাসন সোসাইটির তরফে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। ক্লিও কাউন্টি সোসাইটির সিনিয়র সিটিজেন ক্লাবের সদস্যরা সবজি বিক্রেতার ছোট মেয়েকে নিজেদের মেয়ের চোখেই দেখতেন। তাই বাবার মতো পাশে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে চারহাত এক করলেন আবাসনেরই এক প্রাক্তন নিরাপত্তা রক্ষীর। যে এখন অন্য একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মী।
বিয়ের অনুষ্ঠানটিও হয়েছে সোসাইটির ক্লাবহাউসে। উপস্থিত ছিলেন ২০০ জনের বেশি অতিথি। খাওয়াদাওয়াও ছিল অঢেল। দিল্লির জৈতপুরের বাসিন্দা ওই সবজি বিক্রেতার নাম সৎপাল। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে তিনি আবাসনের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে সবজি বিক্রি করতে শুরু করেন। সৎপালের চার মেয়ে ও দুই ছেলে। কষ্টেসৃষ্টে তিনি তিন মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, অর্থকষ্টে ছোটটির কিছুতেই বিয়ে দিতে পারছিলেন না।
नोएडा की क्लीयो काउंटी सोसायटी के बाहर सब्जी बेचने वाले एक रेहड़ी वाले की बेटी जब भी किसी को सब्जी की जरूरत होती, एक कॉल पर वह बिना देर किए सोसायटी के घरों तक सब्जी पहुंचा देती थी।
— Greater Noida West (@GreaterNoidaW) December 23, 2024
सोसायटी के लोगों ने उसे अपनी बेटी जैसा माना और सीनियर सिटीजन क्लब ने आगे बढ़कर उसकी शादी कराई और… pic.twitter.com/EzLzytjJL9
সেকথা জানতে পেরে আবাসনের সোসাইটি সকলের প্রিয় ছোট মেয়ে পূজার বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। তার বিয়ে ঠিক হয় রোহিত নামে এক যুবকের সঙ্গে। রোহিত একসময় নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করত এখানেই। পরে বেসরকারি চাকরি পেয়ে সেখানে কাজে যোগ দেয়। দুজনের বিয়ে এভাবে-সেভাবে হয়নি। রীতিমতো পণ-যৌতুক, আসবাব, সংসারের যাবতীয় অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী উপহার হিসেবেও দেওয়া হয়েছে নবদম্পতিকে।
এক্সে বিয়ের একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, যখনই কারও সবজি-আনাজপাতির প্রয়োজন হতো, তখনই সৎপালে মেয়ে ছুট্টে এসে দরজার সামনে সবজি নিয়ে এসে হাজির হতো। কোনওদিন একবারের বেশি দুবার বলতে হয়নি। আরও লেখা হয়েছে, আবাসনের সোসাইটির প্রত্যেকে তাকে নিজের মেয়ের মতো মনে করতেন। সিনিয়র সিটিজেন্স ক্লাব এগিয়ে এসে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেছে এবং বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করেছে। আজ এই নবদম্পতির জীবন ফুলেফলে নতুন করে শুরু হতে চলেছে।
এই পোস্ট হওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়াও পূজা-রোহিতকে অসংখ্য শুভেচ্ছা জানিয়ে কুর্নিশ করেছে প্রবীণ নাগরিকদের এই ক্লাবকে। যেমনটি ভেবেছিলেন, তার থেকেও অনেক বেশি করে পাওয়া সৎপালও মেয়ে-জামাইয়ের বিদায়ের সময় চোখের জল মুছেছেন আর মনে মনে প্রণাম করেছেন এইসব বড় মনের মানুষগুলোকে।