
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 December 2024 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমেডি ফিল্মের মতো! এক কৃষকের বাস্তব জীবনের ঘটনা যা যে কোনও বলি-ফিল্মের গল্পকেও হার মানাবে। কাহিনির বিস্তারটা হয় এইভাবে। বছর চারেক আগে একটি সিমেন্ট কোম্পানি রাজস্থানের ঝুনঝুনুতে বেশকিছু কৃষিজমি এবং ৫০০টি বাড়ি অধিগ্রহণ করে। তার মধ্যে স্থানীয় কৃষক বিদ্যাধর যাদবের জমিও ছিল। বিদ্যাধরের গোপন ইচ্ছা ছিল, সিমেন্ট কোম্পানি তাঁকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬ কোটি টাকা দেবে। কিন্তু হায়...!
চলতি বছরের ৫ নভেম্বর বিদ্যাধরের বাড়ি ভাঙা পড়ে। কোম্পানির তরফে তাঁকে সরকারি মূল্যে ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব আসে। যা শুনে আকাশ থেকে পড়েন বিদ্যাধর। তিনি প্রশাসনকে হুমকি দেন যে, এত কম টাকা ক্ষতিপূরণ দিলে তিনি এবং তাঁর পরিবার সকলে মিলে আত্মহত্যা করবেন। এইভাবে পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে কোম্পানির উপরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন।
পুলিশ-প্রশাসনকে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর সপরিবারে আত্মহত্যা করতে চলেছেন। কারণ তিনি ৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণে খুশি নন। সিমেন্ট কোম্পানি যদি তাঁর দাবিমতো ৬ কোটি টাকা এবং পরিবারের একজনকে কারখানায় চাকরি না দেয়, তাহলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। যা শুনে বিদ্যাধর ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়। তাও আবার এক-দুজন নয় ৯৯ জন পুলিশ পাঠানোর হয় তাঁরা যাতে কোনওভাবেই আত্মহত্যার সুযোগ তৈরি করতে না পারেন।
এখন তাঁর জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ায় বিদ্যাধরের কাছে ৯ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। যা দেখে কৃষক পরিবারের মাথায় বজ্রপাত ঘটে। আইনে আছে কারও ব্যক্তিগত কারণে পুলিশ গেলে সেই কর্মীদের জন্য পৃথক টাকা জমা দিতে হয়। এ বিষয়ে কৃষক বলেন, তিনি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানাননি। তিনি কেবলমাত্র চাকরি ও ৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছিলেন। নওলগড় এলাকার একটি গ্রামে তিনি আপাতত ভাড়ায় আছেন। কারণ তাঁর বাড়ি ভেঙে দিয়েছে সিমেন্ট কোম্পানি।
কোম্পানির তরফে বলা হয়েছে, সরকারি মূল্যে যাদবকে ৩ কোটি ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, মনের মতো ক্ষতিপূরণ না পেয়ে বিদ্যাধর পুলিশকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। গত ১৭ ডিসেম্বর ঝুনঝুনুর পুলিশ সুপার এক নোটিসে জানান, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, দুজন ডেপুটি পুলিশ সুপার, ২ ইনস্পেক্টর, ৩ সাব ইনস্পেক্টর, ৬ অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর, ১৮ জন হেড কনস্টেবল এবং ৬৭ জন কনস্টেবল মোতায়েন এবং তাঁর নিরাপত্তার জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। রাজকোষ থেকে সেই অর্থ খরচের দরুন তা মেটাতে হবে ওই কৃষককেই।
এ নিয়ে যাদব জানান, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তিনি পুলিশ-প্রশাসন এবং রাষ্ট্রপতিকেও জানিয়েছিলেন ১১ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় সপরিবারে আত্মহত্যা করবেন। কিন্তু, সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা তিনি জানতেন না। বিদ্যাধর বলেন, আমি নিরাপত্তা চাইনি। ওরাই এসব করেছে এবং এখন আমার ঘাড়ে খরচের দায় চাপাতে চাইছে।