
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2024 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দেনাপাওনা' গল্পের বিশ হাজার টাকা পণ-এর দিন গিয়েছে। কিন্তু, হাতে হাতে আদায়-এর দিন এখনও রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে এক পুলিশ কনস্টেবল পাত্রের রেট ৩০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। হিন্দি সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের কায়দায় বিয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে সেই টাকা আদায় হওয়া উচিত। পরে যদি না মেলে! সাত পাকে বাঁধা পড়ার আগে বরের সেই 'ন্যায্য' বায়নায় পিঁড়ি ছেড়ে উঠে পড়লেন কনে। এবং হনহন করে বেরিয়ে গেলেন বিয়ের মণ্ডপ ছেড়ে।
উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এমনই সাহসী কাণ্ড ঘটালেন বিয়ের পিঁড়িতে বসা এক যুবতী। বিয়ের আসরে পণের ৩০ লক্ষ টাকা হাতে না পেয়ে বেঁকে বসেন পুলিশ পাত্র। পণপ্রথার বিরুদ্ধে যে পুলিশের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তিনিই বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানে বসার ব্যাপারে আপত্তি তোলেন। অগত্যা এগিয়ে এলেন তাঁর বাগদত্তা যুবতী। ক্ষোভে-অপমানে বিয়ে না করেই উঠে চলে যান আসর ছেড়ে।
এরকম ঘটনার খবর চাউর হতে আধুনিক-প্রগতিশীল সমাজ পুলিশের এহেন আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রায় কর্মরত ওই বরের নাম রবি কুমার। তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের করেন গাজিয়াবাদে কর্মরত সাব ইন্সপেক্টর কনের বাবা। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার রাতে আগ্রার খান্ডৌলি থানা এলাকায় বিয়ের আয়োজন হয়েছিল।
পণের টাকা নিয়ে বচসা শুরু হয় বরযাত্রী আসার পর থেকেই। এমনকী বরযাত্রী-কনেযাত্রী পক্ষের মালাবদলের কাজও হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় প্রতিশ্রুতি মতো পণের ৩০ লক্ষ টাকা চেয়ে বসে পাত্রপক্ষ। কিন্তু, কনের বাবা তখনই পুরো টাকা দিতে পারেননি। তা নিয়ে দুপক্ষে তুমুল গন্ডগোল শুরু হয়। তখন কনে নিজেই এই বিয়ে করতে অরাজি হন এবং পিঁড়ি ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। তারপরেই বিয়ে ভেঙে যায়।
কনস্টেবল রবি কুমারের বিরুদ্ধে পণপ্রথা বিরোধী আইন সহ বিভিন্ন ধরনের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বরকে গ্রেফতার করা হলেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কনের বাবা অভিযোগে বলেছেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বরযাত্রী নিয়ে রবি কুমার বিয়ের আসরে আসেন। তারপর তিলক অনুষ্ঠান হয়।
রাত ৩টে পর্যন্ত আমি এবং আমরা বর ও বরের বাবাকে বিয়েটা হতে দিন বলে অনুরোধ জানাতে থাকি। কিন্তু, তাঁরা আগে টাকা পরে বিয়ে বলে জানিয়ে দেন। উপায় না দেখে আমি বৃহস্পতিবার ভোর চারটে নাগাদ পুলিশে খবর দিই। কনের এক আত্মীয় জানান, বিয়ের জন্য মেয়েটির বাবা ইতিমধ্যেই কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছেন। গৃহস্থালির অন্যান্য সামগ্রীসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়ে গিয়েছে।