
জোড়া ফলার ধারে কুপোকাত হল আম আদমি পার্টি। গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 8 February 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা ও মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফোটানো আয়করে ছাড় দিল্লির মধ্যবিত্ত ভোটে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলল। দিল্লিতে ২৭ বছর পর প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারণ এই দুই কেন্দ্রীয় নীতির ফল বলে অনেকেরই বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরেই দেশবাসী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে হাঁসফাঁস করার পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে আয়কর ছাড়ের ঘোষণা পটচিত্র বদলে দেয় ভোটের। তার সঙ্গেই অষ্টম বেতন কমিশনের ফলে ফের বেতনের নগদ কড়ি বৃদ্ধির সুফলে হাসি ফোটে চাকরিজীবী মধ্যবিত্তদের মুখে। এই জোড়া ফলার ধারে কুপোকাত হল আম আদমি পার্টি।
এবারের ভোটপ্রচারে বড় বড় জাতীয় রাজনৈতিক সমস্যাকে বাদ রেখেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। সেই জায়গায় আম জনতার সমস্যা, বস্তিবাসীদের দুর্ভোগ, নরম হিন্দুত্বে বিশ্বাসী মানুষকে কাছে টানা, নিকাশিনালা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বেহাল দশা, আপ নেতৃত্বের দুর্নীতির কাঁধে ভর দিয়ে বিপুল জয় হাসিল করেছে বিজেপি। সেই সঙ্গে মধ্যবিত্ত-চাকরিজীবীদের জন্য নয়া বেতন কমিশন গঠন ও কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়করে স্বস্তিতে ভোটযুদ্ধের শিল্ড ঘরে তুলেছে গেরুয়া শিবির।
ভোটে জয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে সুশাসনের জয় এবং অমিত শাহ মোদীর গ্যারান্টির জয় বলে ব্যাখ্যা করলেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য, আসলে বিজেপির এই জয়ের কান্ডারি বেতন কমিশন ও আয়করে ছাড় ঘোষণা। কারণ, দিল্লিতে চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসাদারদের একটা বিরাট অংশের আর্থিক লাভ-লোকসানের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ঝুপড়িবাসীদের ভবিষ্যৎও।
এবার ভোটে বিজেপি ১০টি নির্দিষ্ট বিষয় বাছাই করে প্রচার চালিয়েছে। সেগুলি হল, নিকাশি সমস্যা, স্বচ্ছ পানীয় জল, স্বাস্থ্য, মহিলাদের সুরক্ষা, রাস্তার উন্নতি, যমুনা নদী, বায়ুদূষণ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, শৌচ ব্যবস্থা এবং বেকারি। বিশেষত, দিল্লি চিরে চলে যাওয়া যমুনা নদীর বেহাল দশা নিয়ে লাগাতার প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। গত ১০ বছরে যমুনার দূষণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে তা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে তারা। ঝুগ্গি-ঝোপড়িবাসীদের ৪৩ শতাংশ মানুষ জল কিনে খেতে বাধ্য হন, এই প্রচার আপের নিম্নবিত্ত-গরিব ভোটারদের ভাণ্ডারে গর্ত খুঁড়ে সেঁদিয়ে যেতে পেরেছে সহজেই।
আপের বহু প্রচারিত মহল্লা ক্লিনিকগুলির অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় বস্তিবাসীদের ৭০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন, এই প্রচারেও ঘায়েল হয়েছে কেজরির দল। এরসঙ্গে প্রচার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান যোজনার সুবিধা নিয়ে। এর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের প্রচার জুড়ে ছিল দিল্লিকে সন্ত্রাসমুক্ত ও দাঙ্গামুক্ত করার। বিশেষত অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিম নিয়ে প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন বিজেপি নেতারা।