
শেষ আপডেট: 16 October 2023 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর নভেম্বরে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছিল বছর সাতেকের মেয়েটার। তারপর সব ঠিকই ছিল। হঠাৎ করেই একদিন বুকে চাপ চাপ ব্যথা হতে থাকে। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেন নতুন প্রতিস্থাপিত হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। হৃদস্পন্দনের হারও কম। চিকিৎসার মাঝেই একদিন ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় শিশুটির। মৃতপ্রায় অবস্থা থেকেই অপারেশন করে মেয়েটিকে নতুন জীবন দেন ডাক্তারবাবুরা।
বেঙ্গালুরুর স্পর্শ হাসপাতালে মেয়েটির হার্টের অপারেশন হয়েছে। কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, মেয়েটি কার্ডিওমায়োপ্য়াথিতে আক্রান্ত হয়েছিল। হৃদস্পন্দন বিগড়ে গিয়েছিল। শ্বাসের সমস্যা হচ্ছিল মেয়েটির। ওজন কমে হয়েছিল ১৭ কিলোগ্রাম। এমন অবস্থায় কিশোরীর অপারেশন করাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের সিনিয়র কার্ডিওলজিস্টদের চেষ্টায় নতুন জীবন ফিরে পান কিশোরী।
হার্ট ফেলিওরের নানা কারণ থাকতে পারে, বলছেন অভিজ্ঞ হার্ট সার্জনরা। নানা কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে গিয়ে পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যহত হয়, অক্সিজেনের ঘাটতিতে শুরু হয় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। এটাই হার্ট ফেলিওর। হৃৎপিণ্ডের রক্তবাহী ধমনিতে চর্বির প্রলেপ জমে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে হার্টের পেশি অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে হৃৎপিণ্ডের পেশি নষ্ট হতে থাকে। প্রতি বছর ১৮ লক্ষ মানুষ নতুন করে শিকার হচ্ছেন হার্ট ফেলিওরের। আর এই সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে উন্নতমানের চিকিৎসা করালেও, প্রায় ২০–৩০ শতাংশ রোগীকে বাঁচানো যায় না। হার্ট ফেলিওর শুধু আমাদের দেশেই নয়, সব দেশের চিকিৎসকদের মাথা ব্যথার কারণ। মানুষের গড় আয়ু যেমন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হার্ট ফেলিওরের ঘটনাও।
ভাইরাল ইনফেকশন মায়োকার্ডাইটিস হলেও হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি বাড়ে। এই ক্ষেত্রে লেফট সাইডেড হার্ট ফেলিওর হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও মদ্যপানেও হার্টের পেশি কমজোরি হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়া অর্থাৎ নাক ডাকার অসুখ থাকলেও এই সমস্যার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, লাইফস্টাইল বদলাতে না পারলে হার্টের সমস্যাকে কিছুতেই কাবু করা যাবে না।