২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম পাশ করিয়েছে। তাতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা আছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 June 2025 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের জন্য লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত (Decision to reserve one-third seats in Lok Sabha and State Assemblies for women) ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে। হিসাব মতো সে বছরের লোকসভা ভোট এবং ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা,ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচনে প্রথম কার্যকর হবে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ।
২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম পাশ করিয়েছে। তাতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা আছে। বিল পাশের সময় বলা হয়েছিল, সংসদের বর্তমান আসন সংখ্যা চালু থাকা পর্যন্ত এই সংরক্ষণ চালু হবে না। সংসদ এবং বিধানসভা এলাতার ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুননির্ধারণের মাধ্যমে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পর সংরক্ষণ বলবৎ হবে। তার আগে হবে জনগণনা।
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। হিসাব মতো তা ২০২১-এ হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তখন উদ্যোগ নিয়েও তা স্থগিত রাখা হয়। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে জনগণনা আগামী বছর থেকে পুরোদমে শুরু হবে। ফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭-এর গোড়ায়। তারপর কাজ শুরু করবে ডিলিমিটেশন কমিশন। তারা আসন পিছু গড় ভোটার সংখ্যা চূড়ান্ত করার পর সংসদীয় ও বিধানসভা এলাকা সীমানা নির্ধারণ করবে।
অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও কাজটা সহজ নাও হতে পারে। তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলি এখনই ডিলিমিটেশন চাইছে না। তাদের বক্তব্য, জন্ম নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কারণে ওই রাজ্যগুলির জনসংখ্যা কম। স্বভাবতই লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা কমে যাবে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের বক্তব্য, সব রাজ্যে বিশেষ করে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে নতুন জন্মহার জাতীয় গড়ের নীচে না নামা পর্যন্ত ডিলিমিটেশন না করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। ২০৫০ সাল পর্যন্ত তা পিছিয়ে দিতে একাধিক দল ও রাজ্যকে পাশে নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন তিনি। স্বভাবতই মহিলা সংরক্ষণ চালু করার ক্ষেত্রে ডিলিমিটেশনকে প্রাক শর্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে।