কোট্টায়াম জেলার এই ছোট শহরেই প্রথমবার ‘জেন জি’ প্রজন্মের কোনও প্রতিনিধি বসলেন পৌর প্রশাসনের শীর্ষ চেয়ারে। পালা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দিয়া পেয়েছেন ১৩১টি ভোট।

দিয়া বিনু
শেষ আপডেট: 27 December 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের (Kerala) পালা শহরে রাজনীতির ইতিহাসে এমন ভোর খুব কমই এসেছে। ভোটের ফল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা, দরকষাকষি আর সমীকরণের পর শেষ পর্যন্ত যে মুখটি সামনে এল, তা রাজনীতির চেনা ছবির বাইরে। মাত্র ২১ বছর বয়সে পালা পৌরসভার চেয়ারপার্সন (Municipality Chairperson) হিসেবে দায়িত্ব নিলেন দিয়া বিনু (Diya Binu) পুল্লিক্কাকান্দম - দেশের কনিষ্ঠতম পৌরসভা চেয়ারপার্সন।
কোট্টায়াম জেলার এই ছোট শহরেই প্রথমবার ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মের কোনও প্রতিনিধি বসলেন পৌর প্রশাসনের শীর্ষ চেয়ারে। পালা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্দল প্রার্থী (Independent Candidate) হিসেবে দিয়া পেয়েছেন ১৩১টি ভোট। শুধু তিনি নন - একই সঙ্গে জয়ী হয়েছেন তাঁর বাবা বিনু পুল্লিক্কাকান্দম এবং কাকা বিজু পুল্লিক্কাকান্দম। ফলে পৌরসভার ক্ষমতার ভারসাম্যে পুল্লিক্কাকান্দম পরিবার হয়ে ওঠে নির্ণায়ক শক্তি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিয়া জানিয়েছেন, তাঁর অগ্রাধিকার হবে বুনিয়াদি উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। “আমার বাবা টানা পঞ্চমবার জিতলেন। আমি যখন এক বছরের, তখনই উনি প্রথম কাউন্সিলর হন। ছোটবেলা থেকেই ওঁর কাজ দেখে বড় হয়েছি - সেখান থেকেই এই অনুপ্রেরণা,” বলেন দিয়া। মাদ্রাজ খ্রীষ্টান কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এই নবীন নেত্রী জানালেন, দায়িত্ব সামলে উচ্চশিক্ষাও চালিয়ে যেতে চান।
এই বদলের পেছনে রয়েছে টানটান রাজনৈতিক নাটক। ২৬ সদস্যের পালা পৌরসভায় কোনও জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বামফ্রন্ট এলডিএফ পেয়েছে ১২টি আসন, কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ১০টি। বাকি চারটি আসন যায় নির্দলদের ঝুলিতে। তার মধ্যে তিনটি পুল্লিক্কাকান্দম পরিবারের, একটি কংগ্রেস বিদ্রোহী মায়া রাহুলের।
এই অবস্থায় নির্দলরাই হয়ে ওঠেন ‘কিংমেকার’। শেষ পর্যন্ত পুল্লিক্কাকান্দম পরিবার সমর্থন দেয় ইউডিএফ-কে। মায়া রাহুলও পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস জোটের, তাঁকে করা হয় পৌরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন।
বাম শিবির পুল্লিক্কাকান্দম পরিবারকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করলেও চেয়ারপার্সনের পদ নিয়ে সমঝোতা হয়নি। তার ফলেই ১৯৮৫ সালে পালা পৌরসভা গঠনের পর প্রথমবার এলডিএফের শরিক কেরল কংগ্রেস (এম) বসছে বিরোধী আসনে।
নতুন প্রজন্মের রাজনীতি
পালার রাজনীতিতে দিয়া বিনুর উত্থান শুধু বয়সের কারণেই নজরকাড়া নয়। এটি এক প্রজন্ম বদলের ইঙ্গিত - যেখানে অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার আর নতুন চোখের স্বপ্ন একসঙ্গে পথ চলবে। ছোট শহরের পৌরসভায় এই ২১ বছরের চেয়ারপার্সন কতটা বদল আনতে পারেন, সেটাই এখন কেরলের রাজনীতির নতুন কৌতূহল।