শেষ যে দু’জন লোককে দেখা গিয়েছিল তাঁর সঙ্গে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, অত্যাচারের অভিঘাতে গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে ওই মহিলার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 May 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নির্ভয়াকাণ্ডের নারকীয় অত্যাচারের ভয়াবহতা ফিরল মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh)। ধর্ষণ-পাশবিক অত্যাচারে মৃত্যু হল আদিবাসী এক মহিলার। কাঠের কোনও জিনিস বা রড দিয়ে আঘাত করার ফলে অন্ত্র বেরিয়ে আসে শরীর থেকে। রক্তাক্ত অবস্থায় সংজ্ঞাহীন ওই মহিলাকে শনিবার যখন খুঁজে পাওয়া যায়, মৃত্যু শিয়রে নিশ্বাস ফেলছে। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় তাঁর।
শেষ যে দু’জন লোককে দেখা গিয়েছিল তাঁর সঙ্গে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, অত্যাচারের অভিঘাতে গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে ওই মহিলার। হাড়হিম করা ওই ঘটনা ঘটেছে খালওয়া অঞ্চলে, ইন্দোর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের, নাম হরি, সঙ্গে এক আত্মীয়কে কাছের এক মাঠ পর্যন্ত এগিয়ে দিতে যান ওই মহিলা। জায়গাটি মহিলার বাড়ি থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার দূরে। সেই রাতে বাড়ি না ফেরায় মহিলার বাড়ির লোক ধরে নেন তিনি সেখানেই থেকে গেছেন। কিন্তু তিনি হরি এবং আরেক অভিযুক্ত সুনীলের সঙ্গে হরির বাড়িতে যান। রাতে মদ্যপানও করেছিল তারা।
ভোরবেলা গোঙানির আওয়াজে ঘুম ভাঙে হরির মায়ের। ঘটনাটি কী, দেখতে গিয়ে তাঁর চোখে পড়ে আতঙ্কে কাঁদছেন ওই মহিলা, রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। এরপর অচৈতন্য হয়ে পড়লে বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়। বাড়ির লোক এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে গেলেও অত্যধিক রক্তপাতের ফলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। দুপুর দেড়টা-দু’টো নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, ধারাল কোনও জিনিস দিয়ে ভয়ানক ভাবে আঘাত করা হয়েছে তাঁকে, গোপনাঙ্গ ছিন্নভিন্ন। অভ্যন্তরীণ রক্তপাতই মৃত্যুর কারণ। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সুনীল ও হরির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের মামলা করেছে পুলিশ। পেশায় তারা মজুর।
এই ভয়াবহতা মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১২ সালের দিল্লি গণধর্ষণের সেই কালো ইতিহাস। চলন্ত বাসে গণধর্ষণের স্বীকার হয়েছিলেন নির্ভয়া। লালসা মেটনোর পর বাস থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। গোপনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল লোহার রড। অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেরিয়ে এসেছিল শরীরের বাইরে। এখানেও যেন ফিরে এল সেই স্মৃতি। যোনিপথ ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে অন্ত্র বেরিয়ে এসেছিল শরীরের বাইরে। মূত্রথলি ও জরায়ু অক্ষত থাকলেও জরায়ু ধরে রাখে যে থলি, তা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে বলে জানা গেছে। তা থেকেই ডাক্তাররা মনে করছেন ধারাল কোনও জিনিস ঢোকানো হয়েছিল যোনিপথে। এছাড়া টানাহিঁচড়া করার দাগও মিলেছে মহিলার শরীরে।
বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন ওই মহিলা। তার মাঝেই মারা যাওয়ার আগে চিনিয়ে দিয়ে যান তাঁর ধর্ষণকারীদের। বারবার বলতে থাকেন ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমি বাঁচব না। কিন্তু হরি আর সুনীল করেছে এই কাজ।’
মহিলার কাছে মারা যাওয়ার আগে ২০ হাজার টাকা ছিল বলে জানা গেছে, সেই টাকার লোভেও এই ভয়ানক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে তাঁর সঙ্গে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, জানিয়েছে পুলিশ।