২০০৬ সালের মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় ১৯ বছর পর ১২ অভিযুক্তকে খালাস দিল বম্বে হাইকোর্ট। নিহতের বাবা রমেশ নায়েক বললেন, “১৯ বছর কি প্রহসন ছিল?”

২০০৬ মুম্বই বিস্ফোরণ।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৬ সালের ভয়াবহ মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় ১৯ বছর পর বম্বে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নিহতের বাবা। রমেশ নায়েক নামের ওই ব্যক্তি আদালতের রায়কে ‘এক প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের কাছে জবাব চান— “১৯ বছর গেল কেন? কীসের উদ্দেশ্যে?”
সোমবার বম্বে হাইকোর্ট ২০০৬ সালের ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনকে বেকসুর খালাস দেয়। বিচারপতি রংনাথ পি ডেসাই ও নরেন্দ্র জে এস রসাল-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সরকার পক্ষ যেসব প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তা অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এর ফলে অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দেয় আদালত।
এই রায় নিয়ে রমেশ নায়েক বলেন, “আমি সরকারের কাছে জানতে চাই— ১৯ বছর কেন গেল? এই ১৯ বছর কেন লাগল এক সিদ্ধান্তে আসতে? ২০০২ সালে বিস্ফোরণ ঘটল, ২০০৮-এ আরেকটা হামলা, আর সেজন্য কসাব ও অন্যান্যদের দ্রুত ফাঁসি হল। কিন্তু যারা ১৯ বছর ধরে জেলে ছিল, তাদের সবাইকে এখন খালাস দেওয়া হল। যদি এরা না করে থাকে, তবে ট্রেনের বোমা বিস্ফোরণ ঘটাল কে? এই রায় যেন একটা ঠাট্টা মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এর ফলাফল শুধুই যন্ত্রণার পুনর্জাগরণ ঘটাল। “আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি, আর এখন এইরকম একটা রায়? এ যেন আমাদের সঙ্গে করা নিষ্ঠুর পরিহাস।”
২০০৬ সালের ১১ জুলাই সন্ধ্যায় মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণগুলো ট্রেনের ফার্স্ট-ক্লাস কামরাগুলিতে রাখা বোমা থেকে হয়, যা চার্চগেট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে ছিল। বিস্ফোরণ ঘটে মাটুঙ্গা রোড, মাহিম জংশন, বান্দ্রা, খার, জোগেশ্বরী, ভায়ান্দার এবং বোরিভালি স্টেশনের কাছে।
এই ভয়াবহ ঘটনায় ১৮৯ জন নিহত হন এবং ৮২৭ জনের বেশি যাত্রী আহত হন। ঘটনাটিকে ভারতের অন্যতম সবচেয়ে সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ধরা হয়।
২০১৫ সালে একটি বিশেষ ট্রায়াল কোর্টে ১২ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই তাঁরা এতদিন জেলে ছিলেন। কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট এখন জানাল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে যেসব তথ্য ও সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল, তা পর্যাপ্ত নয়।
এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন অভিযুক্তদের মুক্তি মিলেছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— এই ১৯ বছর ধরে বিচার চলল কেন, এবং দায়ী তাহলে কে?
রায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি, তদন্তের দুর্বলতা এবং বিচার প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনের নিরিখে অভিযোগ প্রমাণ না হলে কাউকে সাজা দেওয়া সম্ভব নয়, এবং যেহেতু এখানে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণ করা যায়নি, তাই আইনের পথে অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।