
শেষ আপডেট: 3 August 2024 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার গঙ্গাজল দিয়ে ধুইয়ে তাজমহলকে পবিত্র করার চেষ্টা অতি হিন্দুত্ববাদীদের। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সদস্য বলে দাবি করা উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা বিনেশ চৌধুরি এবং শ্যাম কুমারকে সিআইএসএফ জওয়ানরা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শনিবার সকালের এই ঘটনায় অতি হিন্দুত্ববাদীদের রাজনীতি ফের একবার সমালোচনার মুখে পড়ে। শ্রাবণ মাস উপলক্ষে তাজমহলের ভিতরে ঢুকে এই দুজন গঙ্গাজলের বোতল থেকে জল ঢালতে শুরু করে। তাদের সেই জল ঢালার ছবিও নেটে এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
Akhil Bharat Hindu Mahasabha workers offered Gangajal on the grave inside Agra Taj Mahal.CISF took Vinesh and Shyam in custody.District President Meena Rathore had brought Kanwar, who was stopped at the gate of Taj. While these two youths went inside with water in Bisleri bottle. pic.twitter.com/QEgKYDdw4Z
— ???????? أم عمارة نور Umm e Umarah (@umm__umarah) August 3, 2024
তাজগঞ্জ পুলিশের হেফাজতে থাকা এই দুই শিবভক্তের দাবি, তারা বিশ্বাস করে তাজমহল আসলে শিবমন্দির ছিল। যার নাম তেজো মহালয়। তাই শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো উপলক্ষে তারা প্ল্যাস্টিকের বোতলে করে গঙ্গাজল নিয়ে আসে। তারপর তারা শাহজাহান ও মুমতাজ মহলের সমাধিতে নামার বন্ধ সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে বোতল থেকে জল ঢালতে শুরু করে। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি এবং বিশ্ব হেরিটেজগুলির মধ্যে অন্যতম তাজমহলে ঢোকার পথে তল্লাশি ও ভিতরে পর্যটক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকে আধা সামরিক জওয়ান। এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
এই দুই যুবক শুধু জল ঢেলেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা দেওয়ালের গায়ে ওম লেখা একটি স্টিকারও সেঁটে দেয়। যা পুরোপুরি বেআইনি কাজ। তাদের অবশ্য তারা কোনও অন্যায় কাজ করেনি। কারণ তারা বিশ্বাস করে তাজমহল আগে একটি শিবমন্দির ছিল। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিসহ হিন্দুত্ববাদী শক্তিরা দাবি জানিয়ে আসছিল। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে আগ্রার তাজগঞ্জ থানার পুলিশ।
এ বিষয়ে নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভার মুখপাত্র সঞ্জয় জাট-এর দাবি, এরা তাঁদের সংগঠনের সদস্য। তাঁরা তেজো মহালয়ে গঙ্গাজল ঢালতে গিয়েছিলেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ওটা আসলে শিবেরই মন্দির। উল্লেখ্য, হিন্দু মহাসভার সদস্য মীরা রাঠোর নামে এক মহিলা তাজমহলে কাঁওয়াড় বা পবিত্র গঙ্গাজলের ভাণ্ড নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, জওয়ানরা তাঁকে গেটের মুখেই আটকে দেন।