দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত।

রাজস্থানে আবারও বাসে আগুন
শেষ আপডেট: 28 October 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের জয়পুরে (Rajasthan) ফের বড়সড় বাস দুর্ঘটনা (Bus Accident)। শনিবার সকালে শ্রমিকবোঝাই একটি বাস হাই-টেনশন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে আগুনে পুড়ে যায় (Bus Fired)। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর জখম কমপক্ষে পাঁচজন। মৃতরা হলেন উত্তরপ্রদেশের বেয়ারিলি জেলার বাসিন্দা নসিম (৫০) এবং তাঁর মেয়ে সাহিনাম (২০)। দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে মর্গে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ২৫ জন শ্রমিক ওই বাসে ছিলেন। তাঁরা বরেলি থেকে টোডির ইটভাটায় কাজ করতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই বাসটির উপর দিয়ে থাকা ১১ হাজার কিলোভোল্ট বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে যানবাহনের গায়ে। মুহূর্তে ঘটে বিস্ফোরণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা গাড়িতে। আগুনের তাপে বাসের পেছনে থাকা একটি মোটরবাইকও পুড়ে যায় সম্পূর্ণ।
দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে জয়পুরের এসএমএস হাসপাতালে। আরও চারজনের চিকিৎসা চলছে শাহপুরা মহকুমা হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে তিনজন মহিলা— নাজমা, সিতারা এবং নাহিম। বাকি দু’জনের নাম আজার ও অলতাফ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহপুরা মহকুমা প্রশাসক জানান, বাসটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। ছাদের উপর প্রচুর মালপত্র রাখা ছিল, যা গিয়ে লাগে হাই-টেনশন তারে। সেই তার ছিঁড়ে পড়তেই আগুন ধরে যায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, বহুদিন ধরেই তাঁরা বিদ্যুৎ দফতরে ছেঁড়া তার মেরামতির অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।
দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাসে অন্তত ১৫টি এলপিজি সিলিন্ডার ছিল, যার মধ্যে দুটির বিস্ফোরণ হয়। তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ২৫ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি, দু’জন ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন।”
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। তিনি বলেন, “জয়পুরের এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।” রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারীও শোকজ্ঞাপন করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মাত্র দু' সপ্তাহ আগেই রাজস্থানের জয়সলমের-জোধপুর হাইওয়েতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২০ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। থাইয়াট গ্রামের কাছে চলন্ত বাসে আগুন ধরে যায়। বাসের গতি তখন কমই ছিল। আগুন ধরে যেতেই যাত্রীরা চিৎকার করতে শুরু করেন। অনেকে জানলার কাচ ভেঙে লাফ মারেন। চালক বাস থামিয়ে দেন। বাসে আগুন লেগেছে দেখে স্থানীয়েরা ছুটে আসেন। তাঁরা যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। বেশির ভাগ যাত্রীকেই উদ্ধার করা হয়। তবে বাসের ভিতরে ১০-১২ জন আটকে পড়েছিলেন। তাঁরা আগুনে ঝলসে যান।