এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। শোকবার্তা জানিয়েছেন হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক নেতা।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই দিনে দেশের দুই প্রান্তে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা (Horrific Accident)। হিমাচল প্রদেশের (Himachal) সিরমৌরে যাত্রীবোঝাই বাস খাদে পড়ে মৃত্যু হল ১৪ জনের। অন্য দিকে, রাজস্থানের (Rajasthan) জয়পুরে দ্রুতগতির অডির ধাক্কায় আহত অন্তত ১৪ জন (14 killed, many injured)। দু’টি ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে।
হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় শুক্রবার দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিমলা থেকে রাজগড় হয়ে কুপভির উদ্দেশে যাচ্ছিল একটি বেসরকারি বাস। হরিপুরধার গ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় বাসটি। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাস্থল জেলা সদর নাহান থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে। খাদে পড়ে বাসটি উল্টে যায়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বাসটির আসনসংখ্যা ছিল ৩৯। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় সেটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কত জন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৪ জনের। আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
সাংগ্রাহের মহকুমা শাসক সুনীল কায়াথ জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। আহতদের সাংগ্রাহ ও দাদাহু হাসপাতালসহ আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ, প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, খাড়া ঢাল বেয়ে আহতদের কাঁধে তুলে উপরে নিয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষজন।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। শোকবার্তা জানিয়েছেন হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু-সহ রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক নেতা।
প্রাথমিক ভাবে স্থানীয়দের অনুমান, পাহাড়ি রাস্তায় বরফ জমে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্য দিকে, শুক্রবার রাতেই রাজস্থানের জয়পুর শহরের সাংবাদিক কলোনিতে ঘটে আর একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দাদরা ও নগর হাভেলি নম্বরের একটি দ্রুতগতির অডি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারলে রাস্তার ধারে থাকা একাধিক ঠেলাগাড়িতে সজোরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তে এলাকা জুড়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।
রাত সাড়ে ন’টার কিছু পর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছিল। ধাক্কার জেরে রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঠেলাগাড়ির জিনিসপত্র। স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদাররাই প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এই ঘটনায় মোট ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আট জনকে ভর্তি করা হয়েছে জয়পুরিয়ার সরকারি হাসপাতালে এবং চার জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল সেন্টারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। গাড়ির গতি, ব্রেক ফেল না কি চালকের অসাবধানতা, ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুই রাজ্যে দুই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, সড়ক নিরাপত্তা এবং যান নিয়ন্ত্রণে সামান্য অসতর্কতাই কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।