টানা বৃষ্টির (heavy Rain) জেরে চামোলি (Chamoli) জেলার নন্দনগর অঞ্চলের চারটি গ্রাম কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড
শেষ আপডেট: 18 September 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand Landslide) টানা বৃষ্টির (heavy Rain) জেরে চামোলি (Chamoli) জেলার নন্দনগর অঞ্চলের চারটি গ্রাম কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রবল ভূমিধস ও বন্যায় (Flood) কুনতারি লাগাফালি, কুনতারি লাগাসরপানি, সেরা এবং ধুরমা গ্রামে ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ৩০টিরও বেশি বাড়ি, একাধিক দোকান এবং গোয়ালঘর মাটির তলায় চাপা পড়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত ১৪ জন নিখোঁজ এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি (Chief Minister Pushkar Singh Dhami)। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০০–রও বেশি।
ধামি জানান, গুরুতর আহতদের মধ্যে এক শিশুকে হেলিকপ্টারে করে এআইআইএমএস হৃষীকেশে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চলছে। এদিন রাজ্য জরুরি কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চামোলির জেলাশাসক সন্দীপ তিওয়ারির সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবিলম্বে রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।
মোক উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির জেরে মোক্ষ নদীর জলস্তর বিপজ্জনক হারে ফুলে ওঠে। নদীর তীর ভেঙে ধুরমা থেকে সেরা পর্যন্ত একাধিক বাড়ি ভেসে যায়। অন্তত ছ’টি বাড়ি ভেঙে গিয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। কুনতারি লাগাফালি গ্রামে এক পরিবারের চার সদস্য-সহ আটজন নিখোঁজ। ধুরমা গ্রামে নিখোঁজ আরও দু’জন। ধামি আশ্বাস দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হবে।
জেলার এক বাসিন্দা তথা ইন্ডিয়ান রেড ক্রসের স্থানীয় শাখার সহ-সভাপতি নন্দন সিং জানিয়েছেন, লাগাতার কাদা ও বোল্ডার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিন দিক থেকে ধসে পড়া পাহাড়ি মাটি গ্রামটিকে কার্যত গ্রাস করেছে। বহু মানুষ অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর জখম হয়েছেন।
উল্লেখ্য, অগস্ট মাসেই নন্দনগর অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে একাধিক বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরা পড়েছিল। সেসময় গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার নতুন করে ধস নামায় আতঙ্ক আরও গভীর হল।
গত দু’দিন আগে দেরাদুন এবং সংলগ্ন অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসের জেরে ২১ জনের মৃত্যু হয়, নিখোঁজ হন ১৭ জন। তার পরেই চামোলির এই বিপর্যয় রাজ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলল। প্রশাসন জানিয়েছে, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।