রামপালের বিরুদ্ধে প্রথম বড় মামলা শুরু হয় ২০০৬ সালের একটি খুনের ঘটনাকে ঘিরে। পরবর্তী চার বছরে তিনি ৪২ বার আদালতে হাজিরা এড়ান। তাই ২০১৪ সালে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি হয়।

ধর্মগুরু রামপালের জেলমুক্তি!
শেষ আপডেট: 11 April 2026 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় জেলে কাটানোর পর ফের খবরের শিরোনামে ‘সন্ত’ রামপাল (Sant Rampal)। ১২ বছর পর জেল থেকে বেরিয়েই আশ্রমে ফিরেছেন তিনি, আর সেই মুহূর্তের ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তুমুল চর্চা। কারও কাছে এটি ‘বিজয়ী প্রত্যাবর্তন’, আবার কারও কাছে পুরনো বিতর্কের নতুন অধ্যায়। ঠিক কীভাবে এক সাধারণ ইঞ্জিনিয়ার থেকে বিতর্কিত ধর্মগুরু হয়ে উঠলেন রামপাল, আর কেন এত বছর জেলে থাকতে হল, সেই গল্পই এখন নতুন করে সামনে আসছে।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের (Punjab and Haryana High Court) নির্দেশে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৭৫ বছরের এই ধর্মগুরু। ২০১৪ সালের দেশদ্রোহিতা ও হিংসার মামলায় (2014 sedition and violence case) তাঁর বয়স, দীর্ঘ কারাবাস এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিকে মাথায় রেখে আদালত তাঁকে জামিন দেয়।
২০১৪-র সংঘর্ষ, যে ঘটনায় শুরু আইনি জট
রামপালের বিরুদ্ধে প্রথম বড় মামলা শুরু হয় ২০০৬ সালের একটি খুনের ঘটনাকে ঘিরে। পরবর্তী চার বছরে তিনি ৪২ বার আদালতে হাজিরা এড়ান। তাই ২০১৪ সালে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি হয়। তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশ যখন হরিয়ানার হিসারের বারওয়ালায় তাঁর আশ্রমে যায়, তখন দেখা দেয় তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষ, যা চলেছিল প্রায় ১০ দিন।
হাজার হাজার অনুগামী আশ্রমকে ঘিরে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। পুলিশের অভিযোগ, তারা পেট্রল বোমা, অ্যাসিড পাউচ দিয়ে হামলাও করে। নারী-শিশুকেও ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পুলিশ আশ্রমের বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
১৮–১৯ নভেম্বর পুলিশের জোরদার অভিযানের পর আশ্রমে পাঁচ মহিলা ও এক ১৮ মাসের শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। বহু পুলিশ কর্মীও আহত হন। সেদিন রাতে রামপাল-সহ প্রায় ৯০০ অনুসারী গ্রেফতার হয়েছিলেন।
২০১৮ সালে ছয় জনের মৃত্যুর মামলায় রামপালকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালে হাইকোর্ট তা স্থগিত রাখে,মৃতদের পরিবার আদালতে পুলিশের টিয়ারগ্যাসে শ্বাসরোধের কথা বলায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
২০১৪-র অবরোধ–সংক্রান্ত দেশবিরোধী ও অন্যান্য অভিযোগের মামলায় এবার ৮ এপ্রিল ২০২৬-এ আদালত তাঁকে জামিন দেয়। বিচারক মন্তব্য করেন, ১১ বছরের বেশি কারাবাস, বয়স ৭৫ বছর এবং এখনও বহু সাক্ষীর অনুপস্থিতি- এসব দেখে জামিন দেওয়াই যথাযথ।
কে এই রামপাল?
১৯৫১ সালে হরিয়ানার সোনিপতের এক গ্রামে জন্ম। পেশায় ছিলেন সরকারি সেচ দফতরের একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯৪ সালে এক কবীর-পন্থী সাধুর সঙ্গ পাওয়ার পর চাকরি ছাড়েন এবং হয়ে ওঠেন ‘সন্ত রামপালজি মহারাজ’। তাঁর আশ্রমে অনুসারীদের জন্য কড়া নিয়ম- মূর্তি পূজা নয়, নেশা নয়, পণ নয়।
২০০৬ সালে আর্য সমাজের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে প্রথম আইনি বিতর্ক শুরু। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হন ভারতের অন্যতম বিতর্কিত ‘গডম্যান’।