প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে দেখা করলেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

অধীর মোদীর কাছে পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে দুর্দশা ও দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শেষ আপডেট: 30 December 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অত্যাচার চলছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাঁদের পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে দেখা করলেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন কলকাতায় অনুপ্রবেশ রোধে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, তখন নয়াদিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর।
অধীর মোদীর কাছে পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে দুর্দশা ও দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। লোকসভার প্রাক্তন এমপি তথা মন্ত্রী অধীর চৌধুরী মোদীর কাছে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের কীভাবে ভিনরাজ্যে হেনস্তা, মারধর, এমনকী নির্বিচারে খুন করা হচ্ছে, তা তুলে ধরেন। প্রতিটি ঘটনাতেই পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীদের অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি সন্দেহে অত্যাচার চলছে বলে মোদীর সামনে দাবি করেন অধীর। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি এ ব্যাপারে এগিয়ে রয়েছে বলেও সাফ জানান প্রদেশ কংগ্রেস নেতা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে অধীর অনুরোধ করেন যে, দেশের সব সরকারকে সতর্ক করে দেওয়া উচিত। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। এক চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছেন, বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে জুয়েল শেখ নামে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। ওই যুবক তাঁর জেলা মুর্শিদাবাদের ছেলে। তাঁকে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তিনটি ছেলেকে সম্বলপুরে মারধর করা হয়। দুজন পালিয়ে সক্ষম হলেও গত ২৪ ডিসেম্বর জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কারণ তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলতেন। অধীর আর্জিপত্রে লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের উপর এভাবে নির্যাতন চলছে, বিশেষ করে বিজেপি যে যে রাজ্যে সরকারে রয়েছে। বাংলাভাষী শ্রমিকদের নির্দিষ্ট করে মার খেতে হচ্ছে কারণ তাঁদের বাংলাদেশি বলে ভুল বোঝা হচ্ছে। তাঁদের একটাই অপরাধ যে, তাঁরা বাংলায় কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিতে লিখেছেন, বাংলাভাষী ও বাংলাদেশির মধ্যে একটি পার্থক্য গড়ে তুলতে হবে। সে কারণে অনেক রাজ্যবাসীকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বিনা কারণে আটক করছে। অথচ, পরিযায়ী শ্রমিকদেরও এদেশে নির্ভয়ে, খেটে খাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মোদীকে জানান অধীর চৌধুরী।