সরোজ দুবের কাছে থাকা পুরনো কয়েনের ছবি দেখে প্রতারকরা বলেন, এগুলির দাম হতে পারে প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা। এরপরেই শুরু হয় টাকা আদায়ের খেলা। প্রতারকরা প্রথমে প্রসেসিং চার্জ হিসেবে ৫২০ টাকা চায়। পরে একের পর এক অজুহাতে হাজার হাজার টাকা চাওয়া হয়।

মধ্যপ্রদেশে আত্মঘাতী প্রৌঢ়
শেষ আপডেট: 6 July 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো কয়েনের বদলে মোটা টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রৌঢ়ের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা আত্মসাৎ করল প্রতারকরা। শেষে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজেকে গুলি করে আত্মঘাতী হলেন মধ্যপ্রদেশের রেওয়া শহরের অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সরোজ দুবে (৬৫)। তিনি দীর্ঘদিন শহরের একটি স্কুলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। জানা গেছে, ১ জুলাই এক অচেনা নম্বর থেকে সরোজবাবুর মোবাইলে ফোন আসে। ওই পারের ব্যক্তি নিজেকে ‘ইন্ডিয়ান ওল্ড কোম্পানি'র প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়ে জানায়, পুরনো কয়েন কিনছে সরকার। এগুলি সংগ্রহ করে হেরিটেজ কাজে ব্যবহার করা হবে।
সরোজ দুবের কাছে থাকা পুরনো কয়েনের ছবি দেখে প্রতারকরা বলেন, এগুলির দাম হতে পারে প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা। এরপরেই শুরু হয় টাকা আদায়ের খেলা। প্রতারকরা প্রথমে প্রসেসিং চার্জ হিসেবে ৫২০ টাকা চায়। পরে একের পর এক অজুহাতে হাজার হাজার টাকা চাওয়া হয়।
কখনও জিএসটি, কখনও সিকিউরিটি ডিপোজিট, এইসব নাম করে প্রৌঢ়ের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে থাকে প্রতারকরা। ভিডিও, অডিও, নথিপত্র পাঠিয়ে তাঁকে বোঝানো হয় যে টাকা তাঁর কাছেই আসছে, শুধু কিছুটা সময়ের অপেক্ষা। তাঁদের বিশ্বাস করেই সরোজবাবু আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে ধার করে ৬০ হাজার টাকার মতো পাঠিয়ে দেন।
তবে প্রতারকদের লোভ এখানেই থেমে থাকে না। ৩ জুলাই তাঁকে ফোন করে বুঝিয়ে আরও ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। এমনকী টাকা না দিলে আগের সব টাকা জব্দ করা হবে, এই হুমকিও দেওয়া হয়। এই অবস্থায় তিনি পরিবারের কাছে ফের সাহায্য চাইলে স্ত্রী ও জামাই তাঁকে সতর্ক করে পুলিশে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রৌঢ় তখনও বিশ্বাস করেছিলেন যে পুরনো কয়েনের বদলে বিশাল অঙ্কের টাকা আসতে চলেছে তাঁর হাতে।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। আশেপাশে খোঁজ করে পরিবারের লোকেরা তাঁকে খুঁজে পায় পাশের একটি পুরনো বাড়ির বন্ধ ঘরে। সেখানেই তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। নিজের বাবার রেখে যাওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। অভিযোগ জানানো হয় স্থানীয় থানায়।
সরোজ দুবের মৃত্যুর পরও প্রতারকরা ফোন করা বন্ধ করেনি। মৃতের স্ত্রী নির্মলা জানান, তাঁদের কাছে আবারও ৫ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হয়। বলা হয়, এই টাকা দিলেই পুরো অর্থ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
রেওয়ার পুলিশ সুপার বিবেক সিং জানিয়েছেন, সরোজ দুবে যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তাঁর ফোন ও লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় মামলাও রুজু হয়েছে।
সরোজবাবুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। প্রতিবেশীদের কথায়, তিনি ভদ্র ও সৎ মানুষ ছিলেন। তাঁর মতো একজন মানুষের যে এইভাবে প্রতারণার জালে পড়ে এমন পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি।