দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ। দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়ালে ঢুকছে দেশের দুই প্রথম সারির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভারত বায়োটেক ও জাইদাস ক্যাডিলা।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর-জেনারেল বলরাম ভার্গব বলেছেন, দেশের ১১টি জায়গায় প্রথম পর্যায়ের টিকার ট্রায়াল শেষ করেছে ভারত বায়োটেক। তাদের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার প্রভাব ইতিবাচক। অন্যদিকে, জাইদাস ক্যাডিলার ডিএনএ জ়াইকভ-ডি ভ্যাকসিনের প্রথম পর্বের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। দুই টিকারই দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে। এই পর্বে আরও বেশিজনকে টিকা দেওয়া হবে।
ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভি জি সোমানির অনুমোদনে দুই সংস্থাই টিকার প্রথম পর্বের ট্রায়াল শুরু করে জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে। ভারত বায়োটেক জানায় দিল্লির এইমস, পাটনার এইমস, বিশাখাপত্তনমের কিং জর্জ হাসপাতাল, রোহতকের পিজিআইএমএস, কর্নাটকের জীবন রেখা হাসপাতাল, নাগপুরের গিল্লুরকর মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, গোরক্ষপুরের রানা হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের এসআরএম সহ ১১টি ক্লিনিকে টিকার ট্রায়াল চলছে। পটনা এইমসে প্রথম ১৮-২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকা দেওয়া হয়। দিল্লির এইমসে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে প্রথম টিকা ইনজেক্ট করা হয়। জানা গিয়েছে, এইমসে টিকার ট্রায়ালের জন্য সাড়ে তিন হাজারজন নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের প্রাথমিকভাবে ২২ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি) থেকে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে ল্যাবোরেটরিতে তার স্ক্রিনিং করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট BBV152 বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, করোনার ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। কাজেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। অথচ এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে পারে।
জাইদাস ক্যাডিলার তৈরি জ়াইকভ-ডি হল প্লাসমিড ডিএনএ ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে সংস্থার ভ্যাকসিন টেকনোলজি সেন্টার (ভিটিসি)। ল্যাবরেটরিতে এই ভ্যাকসিনের প্রিক্লিনিক্যাল স্টেজের ট্রায়াল হয় পশুদের শরীরে। ইঁদুর, খরগোশ, গিনিপিগের শরীরে ভ্যাকসিন দিয়ে দেখা যায় তার ফল সন্তোষজনক। এইসব ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমতি দেয় ড্রাগ কন্ট্রোল, রিভিউ কমিটি অন জেনেটিক ম্যানিপুলেশন (আরজিজিএম) ও সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবরেটরি (সিডিএল)। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০৪৮ জনকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পঙ্কজ পটেল। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২৮ দিনের ব্যবধানে তিন ডোজে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। প্রথম পর্বের ট্রায়াল শেষ হতে ৮৪ দিন সময় লাগবে। কিন্তু, আইসিএমআর জানিয়েছে, এই অতিমহামারীর সময় টিকা দ্রুত নিয়ে আসতে হবে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনেই ট্রায়ালের দুই পর্বের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। সুরক্ষাবিধি মেনে, মানুষের শরীরে প্রভাব দেখেই টিকা বাজারে আনা হবে।