
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 22 June 2024 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলেধরা সন্দেহে মারধর, সেই সূত্রে হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেন বেড়েই চলেছে!
বুধবার বারাসতের কাজিপাড়া থেকে এক বালক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলা এবং তাঁর সঙ্গীকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার অশোকনগরের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুমলিয়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এক তরুণী। তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও।
এবার ছেলেধরা সন্দেহে শুক্রবার রাতে খড়দহের রুইয়া এলাকায় নাজির হোসেন নামে ৩২ বছরের এক যুবককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করেছে। ব্যারাকপুর হাসপাতালে হয়ে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, যুবকটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। দোষীদের শাস্তির দাবিতে ইতিমধ্যে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন নাজিরের পরিবার। ঘটনার তদন্ত নেমেছে পুলিশ। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
ছেলেধরা গুজবে উত্তর ২৪ পরগনায় চারদিনে তিনটি গনপিটুনির ঘটনা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যেমন উন্মত্ত জনতার আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট তেমনই প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকাও। বস্তুত, শুক্রবার অশোকনগরে জখম তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় থানার পুলিশ কর্মীদেরও।
পুলিশ সূত্রের খবর, ইদ উপলক্ষে শুক্রবার মেলা বসেছিল মোহনপুর পঞ্চায়েতের কাঠালিয়ায়। মেলায় ঘোরাঘুরি করার সময় নাজিরকে ঘিরে ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, এরপরই নাজিরকে 'তুই এলাকার বাচ্চা চুরি করতে এসেছিস' বলেই মারধর শুরু হয়।
এলাকার ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাজিরের এলাকার মানুষজন। পরে মোহনপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। জখম যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়েছে। নাজিরের প্রতিবেশীদের বক্তব্য, "একটা ভাল ছেলেকে এভাবে ছেলেধরা অপবাদ দিয়ে মারধর করা হল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।