
শেষ আপডেট: 30 August 2021 15:47
তাকে রাখা সারনাথের বুদ্ধ মুখ। উদ্ধারের সময়েই যার নাকের কাছে কিছুটা ভাঙা ছিল। যেমনটা রয়েছে কলকাতা মিউজিয়ামের পুরাতাত্ত্বিক গ্যালারিতে। হুবহু সেই মূর্তিই সাজানো রয়েছে। কোনওটা রঙ করা হয়েছে। কোনওটা সবে ছাঁচ থেকে বের করা হয়েছে।
পাথরের আসল মূর্তি আর প্লাস্টিক অফ প্যারিসের রেপ্লিকা পাশাপাশি রাখলেও আসল–নকল বুঝতে হিমসিম খাবেন। এমনই সূক্ষ্ম হাতের কাজ জাদুঘরের শিল্পীদের।
তপনবাবু বললেন, ‘যতই আধুনিক প্রযুক্তিরই সাহায্য নিক না কেন, কেউ মিউজিয়ামের মূর্তি আমাদের থেকে নিখুঁত তৈরি করতে পারবে না। কারণ আমরা আসল মূর্তি থেকে মাটির ছাঁচ নিই। সেই অনুযায়ীই তৈরি হয় নকল মূর্তি। আগে ফাইবার গ্লাসের মূর্তি তৈরি হত। এখন শুধুই প্লাস্টার অফ প্যারিসের ওপর কাজ হচ্ছে।’
বেশকিছু মূর্তি আবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করেন শিল্পীরা। যেমন মাদার অ্যান্ড চাইল্ড, মহিষাসূর মর্দিনী, পার্বতী, গণেশ ইত্যাদি। যেগুলি মিউজিয়ামের দোকানে মেলে না। সেগুলির জন্য এই দুবছরে কয়েকহাজার আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের হাতে দেওয়া যাচ্ছে না। জোরকদমে কাজ চললেও কবে নাগাদ ওই মূর্তিগুলি দেওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না শিল্পীরা। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পী–কারিগরের অভাব। অনেকবছর আগে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শিল্পীও কারিগর নিয়োগ করেছিলেন। তারপর থেকে আর কোনও নিয়োগ করা হয়নি। যেকারণে শিল্পীর অভাবে মূর্তি তৈরি কম হচ্ছে। মিউজিয়ামের দোকানে গেলে যে মূর্তিগুলো সবসময় পাওয়া যেত, সেগুলিই এখন মিলছে না। এখন মূল শিল্পী ও তাঁর অধীনে চারজন শিল্পী রয়েছেন। আর রয়েছেন জনা পাঁচেক কারিগর। যেপরিমাণ শিল্পী–কারিগর প্রয়োজন, তার অর্ধেকও নেই এখন।
শিল্পীরা জানালেন, সব মূর্তিরই পেডেস্ট্যাল এখানেই তৈরি হয়। যাতে লাগানো থাকে মূর্তির বিবরণ। যেমনটা মিউজিয়ামের আসল মূর্তিতে থাকে। আবেদনের ভিত্তিতে যে মূর্তি দেওয়া হয়, লকডাউনের আগে পর্যন্ত তার মাত্র ১২০টি দেওয়া হয়েছে। এখনও কয়েক হাজার মূর্তির আবেদন আছে। মূলত ইতিহাস যারা ভালোবাসেন, তাঁরাই ওই মূর্তিগুলি সংগ্রহে রাখেন। ওই মূর্তিগুলি তৈরি করতে যা সময় লাগে, সেই সময়ের মধ্য অনেক ছোট মূর্তি তৈরি হয়ে যায়। দোকানেও তো মূর্তি পাঠাতে হবে, তাই কর্মীর অভাবে দেরি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ট্যাংরার বিস্ফোরণ থেকে শিক্ষা নিন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে কীভাবে সতর্ক থাকবেন জেনে নিন
‘মিউজিয়াম শপে’ গিয়ে দেখা গেল, বহু মূর্তিই নেই। সেখানকার এক কর্মী জানালেন, মডেলিং ইউনিটে জোরকদমে কাজ চলছে, কয়েকদিনের মধ্যেই সব মূর্তি পাওয়া যাবে। তবে নতুন ক্যাটালগে দেখা গেল, আগের তুলনায় দাম অনেক বেড়ে গেছে।
ওই কর্মী বললেন, ‘প্রতি দশবছর অন্তর দাম বাড়ানো হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্তও পুরনো দাম ছিল। এখন পাঁচগুন দাম বেড়েছে। এখন ‘অবলোকিতেশ্বর-এর দাম ৬৮০ টাকা। ‘বাস্ট অফ লেডি’র দাম হয়েছে ২৭০ টাকা। ‘রেবন্তে’র দাম ৫৫০ টাকা।
করোনাপর্বের পর কলকাতা মিউজিয়াম এখন ভার্চুয়াল হয়েছে। এবার মূর্তি কেনার প্রক্রিয়াটিও অনলাইনে করার চিন্তা–ভাবনা করা হচ্ছে। বিষয়টিতে মিউজিয়ামের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা অরিজিৎ দত্তচৌধুরী বললেন, ‘এখানকার মূর্তির চাহিদা ব্যাপক। এখন শুধু মিউজিয়ামে টিকিট কেটে এসেই মূর্তি কেনা যায়। বিষয়টিকে অনলাইন করা হবে। তবে আগে মডেলিং ইউনিটের শিল্পী–কারিগরের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তারপর অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'