দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স্ক মহিলাকে প্রকাশ্যে মধ্যমা দেখিয়েছিলেন ৩৩ বছরের যুবক। যেমন অসভ্যতা ও হেনস্থার ঘটনা রাস্তাঘাটে মাঝেমধ্যে ঘটেই থাকে আর কী। প্রতিবাদ করেন অনেকে, কেউ এড়িয়ে যান। কখনও আবার প্রতিবাদ করেও কাজ হয় না। কিন্তু মুম্বইয়ের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। তিন বছর আগের এই কাণ্ডের জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত, অবশেষে জয় পেলেন প্রৌঢ়া। ৬ মাসের জেল ঘোষণা হল অনিকেত পাটিল নামের ওই যুবকের।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রায় ঘোষণা করে জানিয়েছে, মহিলাদের মৌলিক অধিকার রয়েছে নিজেদের সম্মান নিয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করার। এভাবে কখনওই মহিলাদের অপদস্থ করা যায় না।
২০১৮ সালে মুম্বইয়ের হিউস রোডে ঘটেছিল এই ঘটনা। ৬৬ বছর বয়সি অভিযোগকারিণী মহিলা আদালতে জানিয়েছেন, তিন বছর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি এবং তাঁর ছেলে অফিসে যাচ্ছিলেন গাড়ি করে। সকাল ১১.৪০ বাজে তখন। তাঁরা ক্যাডবেরি জংশনের কাছে পৌঁছন। সেই সময় হঠাৎই সেখানে একটি লাল রঙের গাড়ি এসে দাঁড়ায়। মহিলার দাবি, সেই গাড়িটি হঠাৎই তাঁদের গাড়ির বাঁদিক দিয়ে এসে তাঁদের গাড়িকে ঠেলতে থাকে ডিভাইডারের দিকে। এইভাবে তাঁদের গাড়িটিকে নাকি প্রায় ১০০ মিটার নিয়ে যাওয়া হয় চেপে চেপে।
এখানেই শেষ নয়। এর পরে তাঁরা যখন মুম্বইয়ের হিউস রোডের ওপর এসে পৌঁছন, তখন সেই লাল গাড়িটি তাঁদের গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এমন সময় একটা সিগন্যালে তাঁদের গাড়িটি থেমে যায়। তখন লাল গাড়িটি বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে আচমকা জানলার কাচ নামায়। এবং চালকের আসনে বসে থাকা যুবক অনিকেত তাঁকে মিডল ফিঙ্গার দেখাতে থাকে।
বয়স্কা মহিলা জানান, তখন তিনি ওই যুবককে এমন করতে বারণ করেন। শান্ত হতে বলেন। কিন্তু অভিযুক্ত অনিকেত সে কথা শোনা দূরের কথা, উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করতে শুরু করে বলে দাবি মহিলার। এর পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে কথাও বলতে যেতে চান ওই চালকের সঙ্গে, কিন্তু তাঁর ছেলে তাঁকে আটকান বলে জানিয়েছেন মহিলা৷
এমনই সময়ে সেখানে একজন ট্র্যাফিক পুলিশ এসে, পুরো ঘটনাটি শুনে, অনিকেতকে থানায় নিয়ে যান। কিন্তু অভিযুক্ত অনিকেত পাল্টা দায়ের করেন মিথ্যে অভিযোগ। নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অন্যদিকে এই ঘটনার অভিমুখ ঘোরাতে চান তিনি। কিন্তু তিনি এতে সফল হননি। আদালতে কেস উঠলে বিচারক জানিয়ে দেন, ৬৬ বছরের একজন মা এমন অপমানের ঘটনা মিথ্যে করে বানিয়ে বলবেন না, সম্পূর্ণ অচেনা যুবককে দোষী সাজানোর জন্য।
এর পরেই অনিকেত পাটিলের মিথ্যা এফআইআর খারিজ করে কোর্ট। তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক।