
শেষ আপডেট: 1 April 2023 06:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) হঠাৎ মেসেজ ‘প্রেম করবে আমার সঙ্গে? রিপ্লাই করো হ্যাঁ/ না।’ আর এই প্রেমের ডাকে উত্তর দিতে গিয়েই প্রতারণার (cybercrime) শিকার হলেন নয়াদিল্লির লক্ষ্মী নগরের বাসিন্দা নাভেদ খান।
নাভেদ খানের অভিযোগ, একদিন হঠাৎই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে ঢুকে পড়েন পূজা নামের এক তরুণী। তরুণী জানান তিনি আগরায় থাকেন এবং নাভেদের সঙ্গে প্রেম করতে চান। তরুণীর প্রস্তাবের জবাবে ‘হ্যাঁ’ লিখে পাঠাতেই নাভেদকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করেন পূজা।
‘প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে’, আর সেই ফাঁদে ভুল করে পা ফেলেই মাশুল গুনছেন ২২ বছরের যুবক (Young man) নাভেদ খান। ভিডিও কল করে নিজের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকেও জামাকাপড় খুলতে বলেন পূজা। নাভেদ তার কথা শুনে সাবধানতা অবলম্বন করে পুরোটা না খুললেও, তার এই ভিডিও কলের স্ক্রিন রেকর্ডিং করেন পূজা। এই ঘটনার পরে নাভেদ তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পান যেখানে লেখা, তার সেই ভিডিও কলের স্ক্রিন রেকর্ডিং এবার পোস্ট করে দেওয়া হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভয় পেয়ে নাভেদ খান তার হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ ফোন থেকে ডিলিট করে দেন।
তবে তাতেও বিপদ শেষ হয় না, এর পর নাভেদের কাছে আসতে থাকে একের পর এক ফোন। নাভেদের অভিযোগ, প্রথমে একজন তাকে ফোন করে বলেন, তার নামে দিল্লি সাইবার সেলে অভিযোগ রুজু হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ এবার তার নামে ওয়ারেন্ট বের করবে। এই কথায় নাভেদ ভয় পেয়ে গেলে, তাকে প্রতারক ভিডিও কল করতে বলে। ভিডিও কল করার জন্য নাভেদ ফের হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করলে, ওই প্রতারক নাভেদকে মনু পাঞ্চাল নামের এক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে বলে তার ভিডিও ডিলিট করার জন্য।
মনু পাঞ্চালের সাথে যোগাযোগ করলে, সে নাভেদের কাছ থেকে ভিডিও ডিলিট করার জন্য ২১ হাজার ৮০০ টাকা চেয়ে বসে। এইভাবে মোট ৬৪ হাজার ৫০০টাকা সে হাতিয়ে নেয় নাভেদের কাছ থেকে। এরপর সে জানায়, নাভেদের কেসটিকে দেখার জন্য সে সাইবার সেলে মেইল করে দিয়েছে, এবার নাভেদ যেন সাইবার সেলের অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেন। হয়রানির শেষ এখানেও হয় না। নাভেদ সেই সাইবার সেল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে সে ১.৫ লাখ টাকা চেয়ে বসে। নাভেদ দরদাম করে কম টাকা দিলেও, সেই প্রতারক আরও টাকার জন্য নাভেদকে চাপ দিতে থাকে। এরপর আর কোনও উপায় না দেখে নাভেদ থানায় এফআইআর দায়ের করেন।
আসল সাইবার সেলের নজরে ঘটনাটি আসার পরই তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন তারা। তদন্তকারীদের দাবি, কোনো নিরীহ মানুষকে শিকার বানিয়ে, তার সাথে ভিডিও কল করে, তার অশ্লীল ভিডিও রেকর্ডিং দেখিয়ে টাকা হাতানোর অপরাধ এখন ভীষনই বেড়ে গেছে। গত ২৭শে মার্চ দিল্লির শাহদারা থেকেই একটি সাইবার অপরাধীর দলকে পাকড়াও করে পুলিশ। শাহদারা জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা উচিত।
পরকীয়া ছেড়ে বেরতে চেয়েছিলেন হুগলির বধূ, বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিল প্রেমিক