দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯ রোগে মারা গিয়েছেন ১১ হাজারের বেশি। অসুস্থ হয়েছেন আড়াই লক্ষের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে হু-র প্রধান টেড্রোস আধানোম ঘেব্রেইসাস ভারচুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করলেন জেনিভায়। সেখানে তিনি তরুণদের সতর্ক করে বলেন, তোমাদেরও নিশ্চিত হওয়ার কারণ নেই। সাধারণত বয়স্কদেরই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে বেশি। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে যুবক-যুবতীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদেরও হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।
চিনের উহান থেকে গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময়ের মধ্যে সেখানে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। অর্থাৎ সেখানে কোভিড-১৯ কে নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। হু প্রধান এ ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "উহানকে দেখে আমরা ভরসা পাচ্ছি। তার মানে পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।" এর পরে অবশ্য তিনি বলেন, "আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় ফের খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে। কিন্তু যে দেশ বা শহরগুলি মহামারীকে প্রতিরোধ করতে পেরেছে, তাদের দেখে বিশ্বের বাকি দেশগুলির আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে।"
চিনে এখন প্রতিদিন খুব অল্পসংখ্যক মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের প্রায় সকলেই এসেছেন বিদেশ থেকে। করোনাভাইরাস মহামারীর কেন্দ্র এখন এশিয়া থেকে সরে গিয়েছে ইউরোপে। হু প্রধান বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, যে সব দেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা তেমন শক্তিশালী নয়, সেখানে ওই মহামারী শুরু হলে কী হবে? তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের অতিমহামারীগুলোর সঙ্গে কোভিড-১৯ এর পার্থক্য আছে। এখন আমরা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
এর পরেই তরুণদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে হু প্রধান বলেন, "আজ আমি তোমাদের একটা কথা বলতে চাই। তোমরা অপরাজেয় নও। এই ভাইরাস তোমাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য করতে পারে। এমনকি মেরেও ফেলতে পারে।" তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "তারা মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়াচ্ছে। ভাইরাস ছড়াচ্ছে না। এজন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।"
এর আগে হু বার বার বলেছে সামান্য উপসর্গেই ‘টেস্ট’ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। তাতেই চটজলদি ধরা পড়বে সংক্রমণ। কারণ নতুন গবেষণা বলছে এই ভাইরাস মানুষের থেকে বাহিত হচ্ছে বাতাস বা ‘এয়ার ড্রপলেট’-এর মাধ্যমে। প্লাস্টিক, কাঠ বা যে কোনও সারফেসে এরা বেঁচে থাকতে পারে কয়েক ঘণ্টা। এমনও দেখা গেছে সারফেসের ধরনের উপর নির্ভর করে ভাইরাসের স্ট্রেন বেঁচে রয়েছে পাঁচ-ছয় দিন পর্যন্ত।
নোভেল করোনাভাইরাস (2019-nCoV)নামকরণ হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন করোনা (CoV)পরিবারের বিশেষ একটি গোষ্ঠীর সদস্য এই ভাইরাস বা প্রকৃত অর্থে ভাইরাল স্ট্রেন (Viral Strain)। বিটাকরোনাভাইরাসের বিশেষ একটি স্ট্রেন সার্স-সিওভি-২ (SARS-COV-2)বর্তমানে গোটা বিশ্বের ত্রাস । বহুবার জিনের গঠন বদলে এই স্ট্রেন মহামারীর জায়গায় চলে গেছে। এই ভাইরাল স্ট্রেনের সংক্রমণে যে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে তাকেই বলে সিওভিডি-১৯ (COVD-19)। ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, এই ভাইরাল স্ট্রেনের উৎস ও এর প্রতিষেধক এখনও অজানা। ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। এর চরিত্র পুরোপুরি বোঝা না গেলেও কীভাবে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং কোথায় কোথায় এর ঘাপটি মেরে থাকার সম্ভাবনা বেশি সেই তথ্য সামনে এনেছেন গবেষকরা।