দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকপালের দাবিতে নিজের গ্রাম রলেগাঁও সিদ্ধিতে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী অন্না হাজারে। অনশনের ষষ্ঠ দিন, সোমবার তিনি তোপ দাগলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাঁকে ব্যবহার করেছিল গৈরিক ব্রিগেড।
তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে বিজেপি আমাকে ব্যবহার করেছিল। সকলেই জানে, লোকপালের দাবিতে আমি যে আন্দোলন করেছিলাম, তার জোরেই বিজেপি ও আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় এসেছে। এখন আমি তাদের সম্পর্কে সব শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ তোলেন অন্না। তাঁর কথায়, মোদীর নেতৃত্বে সরকার কেবলই মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। তারা দেশকে নিয়ে চলেছে একনায়কতন্ত্রের দিকে। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, তারা চার বছর ধরে ক্রমাগত মানুষকে মিথ্যা বলে চলেছে।
৮১ বছরের অন্নার প্রশ্ন, এই মিথ্যার কারবার কতদিন চলবে? সরকার দেশের মানুষকে বঞ্চিত করেছে। রাজ্য সরকার দাবি করেছে, আমার ৯০ শতাংশ দাবিই নাকি মেনে নিয়েছে তারা। এটাও মিথ্যা কথা। তাঁর আফসোস, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে তাঁর আন্দোলনে যারা লাভবান হয়েছিল, তারা ক্ষমতায় এসে গত পাঁচ বছরে সেই দাবিপূরণে কিছু করেনি।
তাঁর কথায়, সরকার বলছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা আমার কাছে আসবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। কিন্তু আমি তাদের আসতে বারণ করেছি। কারণ তাতে মানুষ বিভ্রান্ত হবে। তারা আগে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিক, তারপর আমাকে সব লিখিতভাবে জানাক। আমি তাদের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা অন্নার প্রাক্তন সঙ্গী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্পর্কে তিনি বলেন, সে আমার আন্দোলনে যোগ দিতেই পারে। কিন্তু আমার সঙ্গে সে স্টেজে উঠতে পারবে না।
অন্নার স্বাস্থ্য নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁদের আশ্বাস দিয়ে অন্না বলেন, চিন্তা করবেন না। আমি ভালো আছি। ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন। আগামী পাঁচদিন অন্তত আমার কোনও ক্ষতি হবে না।
কিছুদিন আগে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র নবাব মালিক অন্নাকে বলেছিলেন, আরএসএস এবং সঙ্ঘ পরিবারের এজেন্ট। কিন্তু তার পরেই অপর এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।