দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন প্রকল্প সম্পর্কে জানাল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। আগেই বলা হয়েছিল, ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে মাত্র তিনটি কাজের দিনে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার ঊর্ধ্বসীমা বজায় থাকবে। তারপরে ইচ্ছামতো টাকা তুলতে বাধা থাকবে না। সেই অনুযায়ী আগামী বুধবার নিষেধাজ্ঞা উঠছে। ওই দিন থেকে ইয়েস ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা ইচ্ছামতো টাকা তুলতে পারবেন।
ইয়েস ব্যাঙ্কে সংকট চলছিল অনেকদিন ধরে। বেড়ে চলছিল অনাদায়ী ঋণের বোঝা। চলতি মাসের শুরুতে ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। ইয়েস ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্ব নিজের হাতে নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তখনই বলা হয়, আপাতত কেউ ব্যাঙ্ক থেকে একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। এর ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েন ব্যাঙ্কের হাজার হাজার আমানতকারী।
শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবমতো স্টেট ব্যাঙ্ক আগামী দিনে ইয়েস ব্যাঙ্কের ইকুইটিতে ৪৯ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও আহ্বান জানানো হচ্ছে।” এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে। তার পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা জানান।
ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনে আরবিআই যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ইয়েস ব্যাঙ্কের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে স্টেট ব্যাঙ্ক। ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক আগামী তিন বছর ইয়েস ব্যাঙ্কের ২৬ শতাংশ হোল্ডিং নিজের হাতে রাখবে। ইয়েস ব্যাঙ্কের কোনও কর্মীকেই ছাঁটাই করবে না।
ইয়েস ব্যাঙ্কের এই সংকট নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, ইয়েস ব্যাঙ্কের এই ভরাডুবির জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সরকারের কেউ কি দায়ী নয়? ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য ইয়েস ব্যাঙ্ক যে পরিকল্পনা করেছে, তাও আজগুবি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
তাঁর কথায়, “ইয়েস ব্যাঙ্কের জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক যে প্রস্তাব নিয়েছে, তা আজগুবি। কারণ ইয়েস ব্যাঙ্কের মোট মূল্য এখন শূন্য। স্টেট ব্যাঙ্ক এখন ইয়েস ব্যাঙ্কের আমানতকারীদের নিশ্চয়তা দিক, তাদের টাকা খোয়া যাবে না।” পরে তিনি বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্ককে বাঁচানোর জন্য স্টেট ব্যাঙ্কের স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করার দরকার নেই।
এর পরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইয়েস ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ যে এত বেড়ে উঠছে, কেউ খেয়াল করেনি কেন? নির্দিষ্ট হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, “২০০৪ সালে ইয়েস ব্যাঙ্কের অনাদায়ী ঋণ ছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালের মার্চে সেই অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা দাঁড়াল কী করে?” চিদম্বরমের মতে, ম্যানেজমেন্টের ভুল এবং নজরদারির অভাব, দু’টি কারণেই ইয়েস ব্যাঙ্কের এই অবস্থা হয়েছে।