দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবারই গ্রেফতার হয়েছেন ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুর। তার আগে ওই ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু সোমবার আশার কথা শোনালেন স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার। তিনি বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ হাজারের বেশি টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যে। তাঁর কথায়, "আমি ইয়েস ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের বলতে চাই, একবার যদি এসবিআই দায়িত্ব নেয়, তাহলে টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।"
আপাতত ইয়েস ব্যাঙ্ককে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ইয়েস ব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করে তোলার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত স্টেট ব্যাঙ্ক। যদিও রজনীশ কুমার এদিন বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করার কোনও নির্দেশ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তাঁদের দেয়নি।
একইসঙ্গে তিনি জানান, ইয়েস ব্যাঙ্কের ব্যাপারে আরবিআই, স্টেট ব্যাঙ্ক অথবা সরকার একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। স্টেট ব্যাঙ্ক এখন আরবিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। ইয়েস ব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে হলে সেখানে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করতে হবে। আপাতত অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ভালর জন্যই ইয়েস ব্যাঙ্কের চাঙ্গা হয়ে ওঠা জরুরি।
গত বৃহস্পতিবার ইয়েস ব্যাঙ্কের সংকটের কথা প্রকাশ্যে আসে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্দেশ দেয়, ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি তুলতে পারবেন না। টাকা তছরুপের দায়ে গ্রেফতার হন রানা কাপুর। আগামী বুধবার অবধি তিনি থাকবেন এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেটের হেফাজতে।
ইডির কৌঁসুলি আদালতে অভিযোগ করেন, রানা কাপুর তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। অন্যদিকে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, তিনি দিবারাত্র সহযোগিতা করেছেন। যদিও তাঁকে ওই সময়ের মধ্যে একটুও ঘুমোতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ইডি তাঁকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে।
৬২ বছরের রানা কাপুরকে রবিবার আদালতে হাজির করানো হলে তিনি ভেঙে পড়েন। ইডির আইনজীবী সুনীল গনজালভেস বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্কে মোট ৪৩০০ কোটি টাকার কেলেংকারি হয়েছে। এব্যাপারে রানা কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহযোগিতা করেননি। তখনই ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমি তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে এক মুহূর্ত ঘুমোতে দেননি।