দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইয়েস ব্যাঙ্ক ভরাডুবি কাণ্ডে এবার গান্ধী পরিবারের নাম জড়িয়ে গেল। জানা গেছে, ইয়েস ব্যাঙ্কের মালিক রানা কাপুর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছ থেকে একটি পেন্টিং দু'কোটি টাকার বিনিময়ে কিনেছিলেন। শুক্রবারই রানা কাপুরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছিল। রানা কাপুরের সঙ্গে পি চিদম্বরমের ছবি দেখিয়ে কংগ্রেসের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল বিজেপি। অন্যদিকে কংগ্রেসও পুরো দায় মোদী সরকারের উপর চাপিয়েছিল।
কিন্তু রবিবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর থেকে ছবি কেনার কথা প্রকাশ্যে আসার পরে খেলা আবার ঘুরে গেল। যদিও কংগ্রেসের দাবি, কারও থেকে একটা ছবি কেনা দিয়ে দলের সঙ্গে কোনও সংযোগ প্রমাণিত হয় না। এটা পুরোটাই ব্যবসায়িক লেনদেন। এবং আলোচ্য ছবিটি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আঁকাও নয়।
ইডি সূত্রে খবর, ২০১০ সালে রানা কাপুরকে ছবিটি ২ কোটি টাকা দিয়ে বিক্রি করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা। ছবিটি এঁকেছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেইন। সেই ছবিটি ছিল প্রিয়ঙ্কার বাবা তথা ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সংগ্রহে। সেটিই বিক্রি করেন প্রিয়ঙ্কা।
ইয়েস ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা রাণা কাপুরের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরে তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে একটি নির্মাণ সংস্থাকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার বদলে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই কারণেই রানা কাপুরের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির মামলা দায়ের করে ইডি।
এর পরে রানা কাপুরকে জেরা করার সময়ে তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
কয়েক দিন ধরেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে ইয়েস ব্যাঙ্ক। শোনা গেছে, দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে ব্যাঙ্কটি। বিষয়টি সামনে আসতেই ব্যাংকের শেয়ারের দাম হু হু করে পড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। ঘোষণা করা হয়, ৫০ হাজার টাকা বেশি তুলতে পারবেন না কোনও গ্রাহক।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগসূত্র বের হলে পরিস্থিতি ফের কোন দিকে গড়াবে, তা আন্দাজ করতে পারছেন না কেউই।