
শেষ আপডেট: 25 May 2022 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের (Yasin Malik) সাজা আজই ঘোষণা করবে দিল্লির আদালত। কিন্তু সাজা ঘোষণার আগেই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টুইটে তাঁর আক্রমণাত্মক মন্তব্য, নরেন্দ্র মোদীর সরকার হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট কৌশল নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলকে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হতে আর্জি জানিয়ে ইমরান বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে হিন্দুস্থানে।
আরও পড়ুন: সিআইডি-র পাতায় ইনি-বিনি-টাপা-টিনির নাম, সতর্ক করল ভবানী ভবন
জম্মু-কাশ্মীরের ২০১৭ সালের একটি মামলায় দিল্লির আদালত ইয়াসিন মালিককে (Yasin Malik) দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ আদালতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে আজ আদালতে। বিচারক এখনও সাজা শোনাননি। তাঁকে আইনের যে সব ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে ইয়াসিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ইয়াসিনের আইনজীবীর আর্জি, যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাই দেওয়া হোক। অন্যদিকে, ইয়াসিন কোনও আর্জি জানাননি। বলেছেন, আদালত যা মনে করবে করতে পারে।
এনআইএ-র মৃত্যুদণ্ড দাবির খবরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। ক'দিন আগেই বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও মুখ খুলেছিলেন ইয়াসিনকে (Yasin Malik) নিয়ে। কাশ্মীরি নেতার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থীদের আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা চলছিল। ১০ মে দিল্লির আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। তারপরই ভারতের বিচার ব্যবস্থার নিন্দা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ইয়াসিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ইসলামাবাদে ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ারকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাক সরকার।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কাশ্মীরের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার সাজা মেনে নিতে পারছে না পাকিস্তান। তারা মনে করছে, এই সাজায় কাশ্মীরের পাক মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির মনোবল ভেঙে যাবে। যা আখেরে পাকিস্তানের ক্ষতি।
এদিকে, ইয়াসিনের (Yasin Malik) সাজা ঘোষণা হবে খবর চাউর হতেই শ্রীনগরের পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে। অনেক দোকান বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে উপত্যকার।
উগ্রপন্থীদের আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ-র তদন্তের ভিত্তিতে ইয়াসিনকে দিল্লির একটি আদালত বিচারে আগেই দোষী সাব্যস্ত করে। ওই একই মামলায় লস্কর-ই-তৈবার হাফিজ শাহিদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সৈয়দ সালাউদ্দিন সহ আরও বেশ কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা ছাড়াও ফৌজদারি দণ্ডবিধির ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রদ্রোহের ও অভিযোগ আনা হয়েছিল।