
শেষ আপডেট: 20 January 2024 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় তৃণমূলের সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। আলিপুর জজ কোর্টের বিচারক জানিয়ে দিয়েছিলেন, আর কোনও অজুহাত দিয়ে হাজিরা এড়ানো যাবে না। সেই নির্দেশ মোতাবেক শনিবার শেষমেশ আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন নুসরত জাহান।
অনেকে বলেন, অভিনয় জগতের মানুষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার তুলনা হয় না। তা ঠিক না ভুল পরের কথা। এদিন দেখা যায়, একটা ব্রাউন ও বেইজ শেডের কো-অর্ড সেট পরে রয়েছেন নুসরত। পায়ে রঙ মেলান্তি গ্লিটারিং স্নিকার। চোখেও রঙ মেলান্তি ব্রাউন শেডের সানগ্লাস।
আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে সাংবাদিকরা তাঁকে মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনও উত্তর দিতে চাননি অভিনেত্রী। পরে দুপুরে এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলেন নুসরত ও তাঁর বন্ধু যশ দাশগুপ্ত। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময়েও তাঁদের ছেকে ধরেন সাংবাদিকরা। কিন্তু দেখা যায়, বেশ গম্ভীর মুখে নুসরতের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন যশ। তাঁকে কিছু বলতে দিলেন না।
নুসরতের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলার অভিযোগ রয়েছে। একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ডিরেক্টর হয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই কোম্পানির থেকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। কিন্ত তাঁরা ফ্ল্যাট পাননি। অথচ এরই মধ্যে ওই কোম্পানি থেকে টাকা তোলেন নুসরত। পাম অ্যাভেনিউতে নিজের ফ্ল্যাটও কেনেন।
পরে প্রতারণার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নুসরত সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, তিনি অনায্য কিছু করেননি। ওই কোম্পানি থেকে তিনি ধার নিয়েছিলেন, তা শোধ করে দিয়েছেন। তবে ঘটনা হল, কোনও প্রাইভেট কোম্পানি থেকে তার ডিরেক্টরের ধার নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ নিয়ম মোতাবেক তার বৈধতা নেই।
নুসরতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছেও। তার জবাবে আবার যশ বলেছিলেন, ইডি নুসরতে ডাকবে না। কিন্তু সেই ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিক প্রমাণিত হয়নি। শেষমেশ একদিন নুসরতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেই নেয় ইডি। এর পরই আর এ নিয়ে মুখ খোলেননি যশ। শনিবারও না।