করোনার বলি উহান হাসপাতালের ডিরেক্টর, সংক্রামিত স্বাস্থ্যকর্মীরাও, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১৮০০
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও ক্রমশ ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। উহানের অন্যতম বড় উচাং হাসপাতালের ডিরেক্টর লিউ ঝিমিংয়ের প্রাণ গেল ভাইরাসের সংক্রমণে। আক্রান্ত ওই হাসপাতালের আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী। সংক্রমণের ভয় পাচ্ছ
শেষ আপডেট: 17 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও ক্রমশ ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। উহানের অন্যতম বড় উচাং হাসপাতালের ডিরেক্টর লিউ ঝিমিংয়ের প্রাণ গেল ভাইরাসের সংক্রমণে। আক্রান্ত ওই হাসপাতালের আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী। সংক্রমণের ভয় পাচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরাও। আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীদের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর মহামিছিল শুরু হয়ে গেছে চিনে। উহানেই মৃত কয়েক হাজার। ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, উহান-সহ চিনের মূল ভূখণ্ড মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৮৬৮। ভাইরাসের সংক্রমণে মঙ্গলবার ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আক্রান্ত প্রায় ৭২,৪৩৬ জন। তবে চিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ক্রমশ কমছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১২ হাজার জন। চিনের বাইরে অন্তত ৩০টি দেশে ৫০০ জন এই ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। ফ্রান্স, হংকং, ফিলিপিন্স ও জাপানে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।
চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের রিপোর্ট বলছে, আক্রান্তদের অধিকাংশেরই সংক্রমণ প্রাণঘাতী ছিল না। দ্রুত চিকিৎসায় তাঁরা সেরে উঠেছেন। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলেছেন, মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। এইভাবে আক্রান্ত হয়েছেন দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ।

হাসপাতালের টাসাঠাসি ভিড় কমাতে উহানে ইতিমধ্যেই উহানে হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরির কাজ শেষ। রোগীদের রাখা হয়েছে বিশেষভাবে তৈরি আইসোলেশন ওয়ার্ডে। তবে চিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে গিয়ে চিনে ১৭০০ জনেরও বেশি চিকিৎসাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। দিনকয়েক আগেই উহানের সেন্ট্রাল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন ৩৪ বছরের লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। রোগীদের শুশ্রুষায় নিযুক্ত থাকাকালীন সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। খবর ছড়ায়, নোভেল করোনা নিয়ে নাকি আগেই সতর্ক করেছিলেন এই ডাক্তার। তিনি প্রথম বলেছিলেন, এক বছর ধরেই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনে এবং এই কথা নাকি আড়াল করে রেখেছে চিনের কম্যুউনিস্ট পার্টি। করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক করে সরকারের বিষনজরে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না বলে মুচলেকাও দিতে হয়েছিল।
নোভেল করোনাভাইরাস নেহাতই সংক্রামিত ভাইরাস নয়, বরং এর জিনের বদল ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে ল্যাবোরেটরিতে। রাসায়নিক যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে বেজিং, এমন খবর ছড়াতেই শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের একটি বক্তৃতা ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। যেখানে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, দেশের মানুষকে সচেতন করার ঢের আগেই করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন প্রেসিডেন্ট। এমনিতেই করোনা নিয়ে দীর্ঘ সময়ে মুখ না খোলায় প্রেসিডেন্টের আচরণ নিয়ে জনরোষ বাড়ছিল। লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যুতে সেই রোষ আরও বাড়ে। এখন উহান হাসপাতালের ডিরেক্টরের মৃত্যুতে ফের ক্ষোভে ফুঁসছে চিন।