
শেষ আপডেট: 11 June 2023 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় দল আত্মসমর্পণ করল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। হার মানল ২০৯ রানে। ঐতিহাসিক টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪৪৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ভারত শেষ ২৩৪ রানে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল বীরের মতো।
এভাবে ভারত হারবে ভাবা যায়নি। একটা সারাদিন পড়েছিল, রাহানে ও বিরাট কোহলি যেতেই ভারতের বাকিরাও সাজঘরের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে চলে গেল। এই হার নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভাবনাচিন্তা করা উচিত।
ভারতীয় ক্রিকেটের হাল সবটাই আইপিএল নির্ভর, সেই কঙ্কালই বেরিয়ে পড়েছে। এইভাবে একটি নামী দল আত্মসমর্পণ করছে ভাবাই যাচ্ছে না। এমনটাই বলছিলেন ধারাভাষ্যকাররা।
প্রথম ইনিংসের চেয়েও ভারতীয় ব্যাটারদের অবস্থা আরও খারাপ। বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়া তো দূরের বিষয়, গতিসম্পন্ন পিচে উইকেটে টিকে থেকে কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেটাই ভুলে গিয়েছেন রোহিতরা। বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁরা সবচেয়ে বেশি ধনী, প্রতিটি ক্রিকেটারের কোটি কোটি আয়। তাঁরা জানেন, জাতীয় দলের হয়ে ভাল খেলার চেয়ে একবার আইপিএলে ভূরিভূরি রান কিংবা উইকেট নিলেই অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যাবে। সেটাই হয়েছে শুভমান গিলদের ক্ষেত্রে। তাঁরা বিনোদনের লিগেই সব এনার্জি শেষ করে এসেছেন, লন্ডনে এসেছিলেন ট্যুরের পরিকল্পনা নিয়ে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
টানা দু’বার টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হার। গতবার ভারত হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। ২০১৩ সালে শেষবার ধোনির নেতৃত্বে ভারতের আইসিসি ট্রফিতে জয়। তারপর ফাইনালে উঠেও কাপ স্পর্শ করা হয়নি। এবারও তাই সেটাই হয়েছে।
টসে জিতে রোহিতের প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়াতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ভারত ব্যাকফুটে রয়েছে। তারপর টপ অর্ডারের ব্যর্থতা। বিশেষ করে চেতেশ্বর পূজারা বিশ্রামে থেকেও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। অশ্বিনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তারপর রোহিত, কোহলি, গিলদের ব্যাট থেকে আগুনে ব্যাটিং দেখা যায়নি। বোলাররা নিজেদের কাজ করার চেষ্টা করলেও জাদেজার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখা যায়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসে কোহলি ৪৯ রানে আউট হয়ে ফেরার পরেই বোঝা গিয়েছিল ভারতের দম শেষ। প্রতিবার রাহানে (৪৬) ও কিছুটা এস কে ভরত (২৩) ছাড়া কারও বলার মতো রান নেই রবিবার। গতদিন যা রোহিত (৪৩) খেলে গিয়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের কাছেই মাথা নত করতে হয়েছে ভারতের বাঘা বাঘা তারকাদের। তবে শেষদিনে স্পিনার নাথান লিয়ন চার উইকেট নিয়েছেন। তার আগে বোল্যান্ড, স্টার্করা আত্মবিশ্বাস নড়িয়ে দিয়েছিলেন কোহলিদের। অজিদের পক্ষে ম্যাচের সেরা অবশ্য ব্যাটার ট্রেভিস হেড। তাঁর প্রথম দিনের সেঞ্চুরিই অনেকটা পথ এগিয়ে দেয় ডনের দেশকে।