দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে লকডাউনের প্রভাব পড়েছে সবার উপরে। কমবেশি আয় কমেছে ধনী, গরিব সকলের। আর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মন্দির তিরুপতি কর্তৃপক্ষের অবস্থা এতটাই খারাপ যেয়ে কর্মীদের বেতন অনিশ্চিত হতে বসেছে।
দেশজোড়া লকডাউনে বন্ধ সব মন্দির। ফলে প্রণামী পড়ছে না। বন্ধ মন্দিরের আয়। আর তার জেরেই কর্মচারিদের বেতন দিতে নাভিশ্বাস উঠেছে বিশ্বের ধনীতম মন্দির কর্তৃপক্ষের। দাবি করা হচ্ছে, তিরুমালার তিরুপতি দেবস্থানমের ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে লকডাউনের কারণে। ফলে বেতন দেওয়ার মতো নগদ টাকা মন্দির ট্রাস্টের হাতে নেই।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, লকডাউনের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁরা বেতন-সহ বিভিন্ন খাতে মোট ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। এখন আর হাতে নগদ টাকা বিশেষ নেই। লকডাউন চলতে থাকলে কী করে কর্মীদের বেতন দেওয়া হবে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে হাতে টাকা না থাকলেও ব্যাংকের লকারে আট টন সোনা আছে মন্দিরের নামে। সেই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ হাজার কোটি টাকা। তবে তাতে হাত দিতে নারাজ মন্দির পরিচালন বোর্ড।
মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াইভি সুব্বা রেড্ডি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "প্রতি মাসে বোর্ডকে বেতন, পেনশন খাতে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও অনেক খরচ আছে। সব মিলিয়ে সারা বছরে মোটামুটি আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু লকডাউনের জেরে মন্দিরের আয় তলানিতে ঠেকেছে। এখন তাই খরচ সামলানো দায় হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বার্ষিক বাজেটে কিছু কাটছাট করতে হতে পারে।"
অন্ধ্রপ্রদেশের এই মন্দিরে প্রতিদিন হাজার দুয়েক ভক্ত সমাগম হয়। তাঁদের দেওয়া প্রণামীর অর্থ ছাড়াও মন্দির কর্তৃপক্ষ অনেক জিনিস বিক্রি করে। সব মিলিয়ে মাসে ২০০ থেকে ২২০ কোটি টাকা আয় হয়। সেটাই গত প্রায় দু'মাস ধরে বন্ধ। লকডাউন ওঠার পরেও কবে থেকে আবার মন্দিরের স্বাভাবিক ছবি ফিরে আসবে, কবে আবার ভক্ত সমাগম হবে তারও ঠিক নেই। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত মন্দির কর্তারা।