দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স তাঁর ১১২। ব্রিটেনের হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির অলটন শহরে বাস তাঁর। তিনিই নাকি বিশ্বের বয়স্কতম মানুষ এখন। গত মাসেই মারা গেছেন জাপানের চিতেতসু ওয়াতানাব। তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৩। তাঁর মৃত্যুর পরেই বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে খেতাব পেয়েছেন এই প্রাক্তন ব্রিটিশ শিক্ষক,
বব ওয়েটন। আজ, রবিবার ছিল তাঁর জন্মদিন।

স্বাভাবিক ভাবেই, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এলাহি আয়োজন ছিল তাঁর জন্মদিনের। বৃদ্ধতম মানুষের জন্মদিন বলে কথা। পরিবার কি তাঁর নেহাৎ ছোট? চার-পাঁচ প্রজন্ম মিলিয়ে নাতি-পুতির সংখ্যাই কি কম? কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সব আয়োজনই পণ্ড। জন্মদিন পালন দূরের কথা, কোয়ারেন্টাইনে একা একা দিন কাটালেন তিনি, সম্পূর্ণ আড়ালে পার করে ফেললেন আরও একটা বছর।

মন খারাপে আচ্ছন্ন মানুষটি বলেন, "সবকিছু বাতিল হয়ে গেল। আর কেউ আসবে না, কোনও উৎসব হবে না।"
দু-দু'টি বিশ্বযুদ্ধ চোখের সামনে দেখেছেন মানুষটি। তার পরেও এই মহামারীর ভয়াবহতা আন্দাজ করতে পারছেন না তিনি। তাঁর কথায়, "এই ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর এবং এর থেকে বাঁচতে গেলে ঠিক কী করতে হবে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। পুরো পৃথিবীর অবস্থা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে।"
/arc-anglerfish-arc2-prod-expressandstar-mna.s3.amazonaws.com/public/Z3R72IMCQFCHZJFSMY4PIPJ3NU.jpg)
কাঁপা হাতে চশমার কাঁচ মুখে ধরা গলায় বলে চলেন তিনি। "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমরা জানতাম কী করতে হবে, আমাদের লক্ষ্য কী... অন্তত আন্দাজ করতে পারতাম, এর পরে কী হবে। কিন্তু এই মহামারীতে কেউ এখন পর্যন্ত জানে না, কীভাবে এই ভাইরাসকে কবজা করা যাবে, বা এর শেষ কোথায়।"

স্প্যানিশ ফ্লু নামে যে ভাইরাস মহামারিতে ১৯১৮ সালে বিশ্বজুড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল, তখন বব ওয়েটনের বয়স ছিল মাত্র ১০। তবে তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ ওই ভয়াবহ মহামারীর শিকার হননি। পরে জেনেছিলেন তিনি এই ফ্লুয়ের কথা। কিন্তু তখন মোটেই ভাবেননি, জীবনের উপান্তে পৌঁছে ফের তিনি সাক্ষী হবেন আরও এক ভয়ঙ্কর মহামারীর!
তাঁর কথায়, "আজ থেকে ১০০ বছর আগে একজন শিশুর জগত একেবারেই আলাদা ছিল। শিশুরা দেশদুনিয়ার খবর এত জানত না। এখন তো নানা দিক থেকে আসা খবরে ছোট-বড় সবাই ডুবে থাকে। কিন্তু তখন এমন ছিল না। আমার পরিবারের কারও কোনও ক্ষতি হয়নি বলে আমার মনেও নেই কিছু।"

বব ওয়েটন তিন সন্তানের বাবা, তার নাতি-নাতনির সংখ্যা ১০ এবং প্র-পৌত্র প্রো-পৌত্রী ২৫ জন। কিন্তু ১১২তম জন্মদিনে এই প্রিয়জনদের সান্নিধ্য বৃদ্ধ মানুষটি পেলেন না। বিগত মহামারী ও বিপর্যয়ের স্মৃতিই সঙ্গী হল কেবল।