দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে।
পর্দা উঠল বলে।
বিশ্বের দীর্ঘতম টেলিস্কোপ এবার ভারতের জিম্মায়। আকারে-আয়তনে-দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে শুধু বিশ্বের নয়, দেশেরও বৃহত্তম এই
গামা-রে টেলিস্কোপ (gamma-ray telescope) বসতে চলেছে লাদাখে। যত দূরে তারাদের সংসারই হোক না কেন, বা ছায়াপথের গোপন কথা—সবই চলে আসবে দেশের মহাকাশবিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়। ধূমকেতুদের আগমনের খবরও দেবে এই টেলিস্কোপ।
ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বার্ক)-এর বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩০০ মিটার উচ্চতায় লাদাখের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসানো হবে এই টেলিস্কোপ। শীতে লাদাখের প্রত্যন্ত ওইসব এলাকার তাপমাত্রা পৌঁছে যায় হিমাঙ্কের ৪০ ডিগ্রি নীচে। তবে পারদ পতন যতই হোক না কেন, তাতে টেলিস্কোপের কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছেন বার্কের বিজ্ঞানীরা। মুম্বইয়ে বার্কের সদর দফতর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এই টেলিস্কোপটিকে চালনা করবেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের দীর্ঘতম এই টেলিস্কোপে রয়েছে ২১ মিটার ব্যাসের বিশাল ডিশ।
নামিবিয়ার হাই এনার্জি স্টিরিওস্কোপিক সিস্টেমের (SESS) টেলিস্কোপে রয়েছে ২৮ মিটার ব্যাসের ডিশ, যা বিশ্বের দীর্ঘতম না হলেও বৃহত্তম টেলিস্কোপ।
ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টার বা বার্কের বিজ্ঞানী নিলয় ভাট বলেছেন, টেলিস্কোপের ইনস্টলেশন হয়ে গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষানিরীক্ষাও হয়ে গেছে। এ বছর থেকেই পুরোদমে কাজ করা শুরু করে দেবে এই গামা-রে টেলিস্কোপ। বিশ্বের দীর্ঘতম টেলিস্কোপ তৈরির এই প্রকল্পে
বার্কের সঙ্গে সমানভাবে অংশ নিয়েছে
টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং
ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড।
[caption id="attachment_180095" align="aligncenter" width="630"]
টেলিস্কোপ হ্যান্ডেল অবজারভেটরি[/caption]
সূত্রের খবর,
মেজর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক চেরেনকভ এক্সপেরিমেন্ট (MACE) পদ্ধতিতে কাজ করবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই টেলিস্কোপ। চেরেনকভ বিকিরণ থেকে বিচ্ছুরিত কণা বিশ্লেষণ সৌরজগতের রহস্য বার করবে এই টেলিস্কোপ। মহাজাগতিক বিকিরণ, তেজস্ক্রিয় কণার বিকিরণ, রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর হদিশ দেবে এই গামা-রে টেলিস্কোপ।
মহাকাশে রহস্যময় আলো বা শক্তিশালী গামা রশ্মির বিস্ফোরণ বিজ্ঞানীদের দেখাবে এই টেলিস্কোপ। বার্কের বিজ্ঞানীরা বলছেন, আদিগন্ত মহাকাশের অন্ধকারে নতুন নতুন মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজ পেতে গামা রশ্মিই পথ দেখায়। যাকে ‘সার্চ লাইট’ও বলা যায়। ওই গামা রশ্মিই বলে দেয় কোথায় কোথায় রয়েছে তারা। কোথায় কোথায় আর ক’টা রয়েছে ব্ল্যাক হোল। এবার তারই চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মহাকাশবিজ্ঞানের অধ্যায়ে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে এই টেলিস্কোপ।