দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ভার্জিনিয়া বিচে একটি সরকারি ভবনে বন্দুকবাজের গুলিতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কম করে ৬ জন। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে আততায়ী। শুক্রবার বিকেল স্থানীয় সময় চারটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।
হামলাকারী এক জন সরকারি কর্মী বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী কাউকে কোনও সময় না দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১১ জন। জখমদের মধ্যে এক জন পুলিশ অফিসার। তাঁর গায়ে বুলেট লেগেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সরকারি ভবনের একাধিক তলে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় আততায়ী। হামলার পরে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিল রক্তাক্ত মৃতদেহ। যাঁরা মারা গেছেন, প্রায় সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা। ওই অফিসে তাঁরা কাজ করতেন। তবে তাঁদের পরিচয় পুলিশ এখনও প্রকাশ করেনি।
যে অফিসটিতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ভার্জিনিয়া সিটির মিউনিসিপ্যাল অফিস। আশপাশে অনেকগুলি সরকারি অফিস রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে আহতদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় হাসপাতালে।
ভার্জিনিয়ার পুলিশ চিফ আততায়ীর পরিচয় এখনও প্রকাশ করেননি। তবে সে যে পুলিশের পাল্টা আক্রমণে মারা গেছে সে কথা জানিয়েছেন। আততায়ীর সম্পর্কে যেটুকু জানা গেছে, সে ওই অফিসেরই দীর্ঘদিনের কর্মী। কোনও বিষয় নিয়ে সে অসন্তুষ্ট ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। তবে বন্দুকবাজ একাই ছিল, তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না বলে জানা গেছে। পুরো এলাকাটিতে একাধিক সরকারি অফিস আছে। গোটা এলাকা লক ডাউন করে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সমস্ত ভার্জিনিয়া শহর এখন থমথমে। ভার্জিনিয়ার মেয়র ববি ডায়ার বলেন, আগে কখনও এমন ঘটনা এই শহরে ঘটেনি। তাঁরা বাকরুদ্ধ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। গোটা এলাকায় তদন্তে নেমেছে এফবিআই।
এই ঘটনার পরে ফের আমেরিকার বন্দুক নীতি নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে দুরকম মতই জোরালো। এক দল চায় বন্দুক নীতি কঠোর করুক সরকার, যাতে সহজেই কেউ লাইসেন্স না পায় ও বন্দুক রাখতে না পারে। কিন্তু এর বিপক্ষে যাঁরা, তাঁদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাঁদের মতে, প্রত্যেকের নিজের জীবন রক্ষার অধিকার আছে। বন্দুক রাখার অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। বিশ্বের কোনও দেশে এত বন্দুক হানার ঘটনা ঘটে না। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমেরিকার কোনও প্রশাসন বন্দুক নীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি।