
শেষ আপডেট: 23 September 2020 18:30
আদির বাবা, মা একটি স্কুল চালান ম্যাঙ্গালোরে। নাম স্বরূপা অধ্যায়না কেন্দ্র। এই স্কুলেই পড়াশোনা করে আদি। লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকার সময় হাতের লেখার আরও কয়েকটি উপায় নাকি শিখে ফেলেছে এই কিশোরী। বাবা গোপাড়কার জানিয়েছেন, মাত্র আড়াই বছর বয়স থেকেই আদির ব্যতিক্রমী প্রতিভা চোখে পড়ে। অন্যদের তুলনায় খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু শিখে ফেলত সে। হাতের লেখাও ছিল চমৎকার। সামনের বছর প্রাইভেটে এসএসএলসি পরীক্ষা দেবে আদি। তার জন্য প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হাতের লেখার অভ্যাসও। বড় হয়ে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।
যে কোনও দিক থেকেই লেখা শুরু করতে পারে এই কিশোরী। বাঁ হাত ও ডান হাতে সমান গতি। লেখাও তেমনি স্পষ্ট। এই বিশেষ গুণের জন্য উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীর লতা ফাউন্ডেশন আগেই আদিকে পুরস্কৃত করেছিল। পরে তার ওঠে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। যে কোনও দিক থেকেই মিনিটে ৪৫ টি শব্দ লিখে ফেলতে পারে কিশোরী। এর আগে এমন ইউনিডিরেকশনাল স্টাইলে মিনিটে ২৫টি শব্দ লেখার রেকর্ড ছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ম্যাঙ্গালোরের এই কিশোরী।
একহাতে কন্নড় ভাষা ও অন্যহাতে ইংরাজিতে টানা লিখে যেতে পারে আদি। মন এবং মাথাকে এমনভাবেই তৈরি করেছে সে। বলেছেন আদির বাবা। তিনি জানান, যে কোনও বিষয়ে দুই ভাষাতেই একসঙ্গে লিখতে স্বচ্ছন্দ মেয়ে। শব্দের কোনও ত্রুটি হয় না তার। গতিও থমকে যায় না। এখনও অবধি ১০ রকমের লেখনীর কৌশল রপ্ত করে ফেলেছে। দুই হাতেই ইউনি ডিরেকশন, লেফট হ্যান্ড স্পিড, রাইট হ্যান্ড স্পিড, রিভার্স রানিং, মিরর ইমেজ, হেটারো টপিক, হেটারো লিঙ্গুইসটিক, এক্সচেঞ্জ, ড্যান্সিং এবং ব্লাইন্ড ফোল্ডিং কায়দায় লিখতে পারে আদি। চোখ খুলে এবং চোখ বন্ধ করেও একই রকম কায়দায় ও স্পিডে লিখে যেতে পারে। এইটুকু মেয়ের মধ্যে এমন প্রতিভা ও অভ্যাস দেখে মুগ্ধ দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও। “এখনও অবধি ইউনিডিরেকশনে প্রতি মিনিটে ৪৫টি শব্দ লিখতে পারে আদি। ৫০ থেকে ৬০টি শব্দ লেখার অভ্যাস চালাচ্ছে সে”, বলেছেন আদির বাবা।
হাতের লেখা ছাড়াও গান, ছবি আঁকা, মিমিক্রিতেও আগ্রহ আছে কিশোরীর। রুবিক’স কিউবেও নাকি দক্ষ সে। স্মৃতিশক্তি তুখোড়। মেমরি গেমেও এর আগে অনেক বার পুরস্কার পেয়েছে।
মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই লিখতে শিখে গিয়েছিল আদি। স্কুলে পড়ার সময় দিনে ৩০ পাতা করে লেখার অভ্যাস করত। বলেছেন আদির মা সুমাড়কার। পণ্ডিত রবি কিরণের কাছে এখন শাস্ত্রজ্ঞ সঙ্গীত শিখছে কিশোরী। নিজের সিডিও বের করেছে। পাশাপাশি, উপন্যাস লেখার কাজও চলেছে। ষোলো বছরের মেয়ে এর মধ্যেই দুটো নভেল লিখে ফেলেছে। তিন নম্বর উপন্যাস লেখা শুরু করেছে। ম্যাঙ্গালুরুর আর্ট গ্যালারিতে আদির আঁকা ৪০টি ছবির প্রদর্শনী হয়েছে এর মধ্যেই। সে ছবিগুলোও প্রশংসা পেয়েছে নানা মহলে। অল ইন্ডিয়া রেডিও, নাম্মা টিভি ও অন্যান্য স্থানীয় ও জাতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রোগ্রাম করার জন্য ডাকও পড়েছে মেয়ের। “আদি মেধাবী। সব গুণই আছে ওর মধ্যে। ওর প্রতিভার বিকাশ একদিন হতই। এমন মেয়ের মা হয়ে আমি গর্বিত”, মুখে তৃপ্তির হাসি আদির মা সামাড়কারের। মেয়ের একদিন বিশ্বজোড়া নাম হবে, সেই স্বপ্নই দেখছেন তিনি।