দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের রাজ পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্যের জন্ম হলো মঙ্গলবার ভোরে। পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কেল। বাবা হলেন প্রিন্স হ্যারি। ছেলের নাম এখনও ঠিক হয়নি। ৩৭ বছরের মেগান ও ৩৪ বছরের হ্যারির এটিই প্রথম সন্তান। মেগানের বাবা টমাস শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান। মা গ্লরিয়া অ্যাফ্রো-আমেরিকান। তাই ব্রিটিশ রাজপরিবারে এই প্রথম মিশ্র-জাতি ও বর্ণের সন্তানের জন্ম হলো। মেগানের সন্তানের জন্ম হাসপাতালে হয়নি, হয়েছে তাঁদের নতুন প্রাসাদ ফ্রগমোর কটেজে।
বাকিংহাম প্যালেসের তরফে ঘোষণা করে হয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে রানি এলিজাবেথের নাতির জন্ম হয়। ওজন সাত পাউন্ড তিন আউন্স। নতুন রাজপুত্র ব্রিটেনের সিংহাসনের সপ্তম দাবিদার। বুধবার এই ছোট্ট রাজপুত্রের প্রথম ছবি দেখা যাবে বলে রাজপরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। মা ও সন্তান সুস্থ আছে বলে পরিবার তরফে জানানো হয়েছে। রাজপরিবারের সূত্রের মতে, সম্ভবত মেগান ও হ্যারির সন্তানকে প্রিন্স উপাধি দেওয়া হবে না। ফিলিপ, চার্লস জাতীয় ব্রিটিশ নাম দেওয়া হবে, না কি একটু অন্যরকম নাম হবে, তা-ও পরিষ্কার নয়। সেই অর্থে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের তিন সন্তানের মতো প্রচারের আলো মেগানের সন্তান পাবে না বলেই ধারণা রাজ পরিবার নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাঁদের।
https://twitter.com/BBCWorld/status/1125400300678983681
সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রী মেগানের পাশেই ছিলেন প্রিন্স হ্যারি। ছেলের জন্মের পরে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের হ্যারি বলেন, তিনি আনন্দে ভাসছেন। প্রথমবার বাবা হওয়ার আনন্দ একেবারেই আলাদা। স্ত্রী মেগানকে নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও জানান হ্যারি।
বছর দুয়েক আগে আমেরিকান টেলিভিশন স্টার মেগান মার্কেলের প্রেমে পড়েন প্রিন্স হ্যারি। আমেরিকান টিভি শো ‘স্যুটস’-এর জন্য সবচেয়ে পরিচিত মেগান। গত বছরের মে মাসে দুজনের বিয়ে হয়। সারা বিশ্ব থেকে সেলিব্রিটিদের ঢল নামে সেই রূপকথার বিয়েতে। মেগানের শ্বেতাঙ্গ বাবা টমাস মার্কেল বিয়েতে না এলেও মা গ্লরিয়া উপস্থিত ছিলেন।
মেগানের আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরেই প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে আলাপ হয় মেগানের। তবে বিয়ের পর থেকেই নানা বিতর্ক শুরু হয়েছে মেগানকে নিয়ে। মেগানের বাবা টমাস সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাঁর মেয়ে রাজপরিবারের বধূ হলেও সে মোটেই সুখী নয়। তার হাসি দেখেই বাবা হিসেবে তিনি বুঝতে পারেন, রাজপরিবারের নিয়ম ও প্রোটোকলের ফাঁসে মেগান অসুখী।