দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে টিন এজার বা টিন ছুঁই ছুঁই সন্তান অনেকেরই আছে। যাঁদের আছে, তাঁরা জানেন টিন এজের বাচ্চাদের মুড সুইং, কথায় কথায় রেগে যাওয়া, তর্কাতর্কি, ভাইবোনদের সঙ্গে মারামারি--সবই খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে গত কয়েক দশক ধরে যা বিজ্ঞানীদের ভাবাচ্ছে, তা হলো টিন এজারদের মধ্যে বাড়তে থাকা ডিপ্রেশন। আর এর জন্য খাদ্যাভ্যাসকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।
নতুন একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, টিন এজাররা কম সবজি খাচ্ছে। তাদের খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। আর এই সব থেকেই তাদের মধ্যে বাড়ছে ডিপ্রেশন। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা-র একটি গবেষণায় টিন ছুঁই ছুঁই স্কুল পড়ুয়াদের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়েছিল। পড়ুয়াদের ইউরিন স্যাম্পল নিয়ে দেখা গেছে এদের সকলেরই শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা খুব বেশি, কিন্তু পটাসিয়ামের মাত্রা কম। গবেষণা যাঁরা করেছেন, তাঁদের অন্যতম মুখ্য ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা-র সাইকোলজি বিভাগের সিলভি ম্রাগ বলেন, “বাচ্চারা খুব বেশি প্রসেসড ফুড খাচ্ছে, যাতে সোডিয়াম খুব বেশি থাকে। ফাস্ট ফুড, ফ্রোজ়েন খাবার আর অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স অতিমাত্রায় শরীরে যাচ্ছে ওদের।”
ম্রাগ বলেন, টিন এজারদের শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা কম। তার থেকে এটাই প্রমাণিত যে ওরা ফল, সবজি খাচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বিন, মিষ্টি আলু, পালং শাক, টমেটো, কলা, কমলালেবু, অ্যাভোক্যাডো, দই ও স্যামনের মতো কিছু মাছে ভালো মাত্রায় পটাসিয়াম থাকে। ওই স্টাডিতে বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির বাচ্চাদের শরীরে বেশি সোডিয়াম ও কম পটাসিয়াম থাকার অর্থ কিছুদিন পরে তাদের মধ্যে অনেকেরই ডিপ্রেশন হতে পারে। তাই টিনএজাররা যদি খাদ্যাভ্যাসে একটু পরিবর্তন আনে, তা হলে সামগ্রিক ভাবে তারা ভালো থাকবে। বেশি এনার্জি পাবে, মনঃসংযোগ ভালো হবে ও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে বলে মত বিজ্ঞানীদের।
তবে এটাও ঠিক, শুধু সোডিয়াম বেশি থাকার ফলে বা ফাস্ট ফুড খাবার জন্যই যে টিন এজারদের মধ্যে ডিপ্রেশন বাড়ছে তা নয়। ম্রাগ বলেন, একা থাকা, রাতে জেগে মোবাইল বা কম্পিউটারে গেম খেলা, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, সামাজিক ভাবে মিশতে না পারা, প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা, নানা রকম কারণেই বাড়ে টিন ডিপ্রেশন। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যেই ডিপ্রেশনের প্রবণতা বেশি। আর এর থেকে আসে আত্মহত্যার প্রবণতাও, যা বিপজ্জনক। আমেরিকায় ২০০৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাচ্চাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের ঘটনা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।